1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
শ্রীবরদীতে ইটভাটার পাহারাদার হত্যা মামলার তিন আসামী গ্রেফতার শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের নয়া কমিটির বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা। ধর্ষিতা কিশোরী অন্ত:সত্বা- ধর্ষণকারীর ফাঁসি চায় এলাকাবাসী কেশবপুরে মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে গাঁজার চাষ, গ্রেফতার ১জন কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ চিকিৎসকের পদ শূণ্য শুধুমাত্র বৈবাহিক বন্ধন থেকে আমাদের সম্পর্কের ইতি টেনে নিলাম! অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনে ক্ষতবিক্ষত ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী ঝিনাইগাতীতে প্রিমিয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত শ্রীবরদীতে নিখোজের চার দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার ডাঃ আব্দুল হামিদ ফাউন্ডেশন থেকে মাস্ক, শীত বস্ত্র ও হুইল চেয়ার বিতরণ

হরেক গুণের ফল চালতা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
  • ১৭ Time View

মৌলভীবাজার: ‘আমি চলে যাবো বলে, চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে– নরম গন্ধের ঢেউয়ে?’ অদেখা চালতা ফুলকে ঘিরে জীবনানন্দ দাশের এমন আক্ষেপ এই বর্ণমালাকে প্রতিধ্বনিত করে রেখেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং উদ্ভিদ গবেষক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, চালতার ইংরেজি নাম ‘Elephant Apple’; মানে হাতির আপেল। আর বৈজ্ঞানিক নামটি হলো Dillenia indica। হাতি এটি খায় এবং তার বিষ্ঠার মাধ্যমেই এই গাছটি বিস্তার লাভ করে। হাতি এই চালতা ফল খেয়ে যখন টয়লেট করে তখনই সেই বীজ উপযুক্ত স্থানে পড়ে চারা গজায়। এটা শক্ত ধরনের ফল; তাই হাতি ছাড়া অন্য প্রাণীরা এটি খেতে পারবে না। তবে বানররাও এ ফল খেয়ে থাকে।

এর ওষুধিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কফ এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে চালতার রস অনেক কার্যকরী। স্টোমাকে ডিজঅর্ডার (পাকস্থলিতে পীড়া) হলে এটি খাওয়া হয়। পরিপাকতন্ত্র যখন ঠিকমতো কাজ করছে না তখন এর রস সেবন করা হলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও চালতা দিয়ে চাটনি, জ্যাম-জেলি প্রভৃতি বানানো হয়। মানুষ রান্নায় বিভিন্ন উপকরণের এটি তৈরি করে খায়। এটি যেহেতু একটু টক জাতীয় তাই রান্নায় একটি অন্য তরকারির সঙ্গে খেতে ভালোই লাগে।

চালতা ফুল। ছবি: বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন

চালতার বিস্তার সম্পর্কে এ উদ্ভিদ গবেষক বলেন, এটি হচ্ছে সাউথইস্ট এশিয়ান গাছ। ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ, সাউথ চায়না, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে এর বিস্তৃতি। এগুলো উচ্চতায় প্রায় ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা সরল এবং বড়। পাতার কিনারা হলো খাজকাটা। পাতার শিরাগুলো খুব স্পষ্ট। চালতা গাছের পাতা দেখলে সহজেই চেনা যায়।

সব দিকে বিবেচনায় চালতা গাছ ফরেস্টের (বনের) গুরুত্বপূর্ণ কম্পনেন্ট (উপাদান) বলে জানান ড. জসীম উদ্দিন।

ফুল সম্পর্কে অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, চালতার ফুল অনেক বড় এবং সিঙ্গেল (একক হয়ে থাকে)। এ ফুলগুলো গাছের শাখার শীর্ষে হয়। তবে এ ফুলগুলো নিম্নমুখী অর্থাৎ নিচের দিকে মুখ করে ঝুলে থাকে। এর মাঝে পাঁচটা স্থায়ী বৃতি থাকে। যেগুলো ফুলের শরীরকে চেপে ধরে রাখে। এই ফুলে পাঁচটি সাদা পাপড়ি রয়েছে। এগুলো ঝরে যায়। ফুলের চারদিকে প্রচুর পুংকেশর বা পুষ্পরেণু দুটো সারিতে বিন্যস্ত থাকে। এর গর্ভপত্র বা গর্ভকেশর রয়েছে পনেরোটি। প্রতিটা গর্ভপত্রে ৫টি করে বীজ হয়। এ বীজগুলো পাল্পের (রসালো অংশ) ভেতরে থাকে। এখন কোনো প্রাণী যখন এই ফলটি চিবিয়ে খায়, তখন বীজ আর হজম হয় না। প্রাণির বিষ্ঠার মাধ্যমে সেগুলো মাটিতে পড়ে অপেক্ষা করতে থাকে; অনুকূল পরিবেশ পেলেই সে বীজ থেকে কুঁড়ি উঁকি দেয়। ‘এই চালতা উদ্ভিদ আমাদের দেশে এখন বিপন্ন। এখন তো এ উদ্ভিদটি দেখাই যায় না। আমাদের ঢাকা শহরে দু-একটা গাছ আছে। আমার গার্ডেনে একটা গাছ রয়েছে। আসলে আমরা বনের মূল কম্পোনেন্ট যে টিম্বারের দিকে নজর দিতে গিয়ে প্রাকৃতিক বনের এসব উপকারী গাছগুলোর প্রতি অবহেলা করেছি।

ফলে ওরা বিপন্ন এবং কোনো কোনো গাছ তো দুস্প্রাপ্য কিংবা বিলুপ্ত তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। যেহেতু এ গাছ ওষুধি গুণাগুণসম্পন্ন, এর ফুল দেখতে অত্যন্ত সুন্দর, ফুলে সুগন্ধ আছে, পরিবেশবান্ধব এবং বিপন্ন তাই এই উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রকৃতিতে রক্ষা করা করা উচিত।’

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪০ ঘণ্টা, জুলাই ০৩, ২০২০

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।