1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কেশবপুরের ডহুরী জলমহল হস্তান্তর করার পূর্বেই বিষ প্রয়োগ, ২৪ লাখ টাকার দেশীয় মাছের ক্ষতি শ্রীবরদীতে ইটভাটার পাহারাদার হত্যা মামলার তিন আসামী গ্রেফতার শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের নয়া কমিটির বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা। ধর্ষিতা কিশোরী অন্ত:সত্বা- ধর্ষণকারীর ফাঁসি চায় এলাকাবাসী কেশবপুরে মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে গাঁজার চাষ, গ্রেফতার ১জন কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ চিকিৎসকের পদ শূণ্য শুধুমাত্র বৈবাহিক বন্ধন থেকে আমাদের সম্পর্কের ইতি টেনে নিলাম! অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনে ক্ষতবিক্ষত ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী ঝিনাইগাতীতে প্রিমিয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত শ্রীবরদীতে নিখোজের চার দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার

প্রেমিকা পড় প্রেমের পদ্য – অবনী অনিমেষ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৩ Time View
প্রীতিলতা পদ্য আমি তোমাকে ভালোবাসি
এ কথাটা পৃথিবীকে জানিয়ে দিতে পারলে
নিজের ভেতরটা অনেক হালকা হতো
কিন্তু পৃথিবীকে জানালেই কী
ভালোবাসা পূর্ণতা পায়
তোমার ঘ্রান
আমার শরীর জুড়ে
যেনো আধোঘুম নেশায় মাতাল এক অব্যয়
যদি হারিয়ে যায় সেই ঘ্রাণ
তুমি ক্ষমা করবে কী ?
পৃথিবীটাকে আমি তোমার চোখে বন্দী করে দেবো
আমার ঘুরতে ভালো লাগে
পাখির মতো, পাখিদের মতো উড়তে ভালো লাগে
তোমার চোখে
একটা নতুন পৃথিবীতে উড়তে চাই
আজ একটা ছোট এক্সিডেন্ট হয়েছে
আমি প্রতিদিনের মতোই বাড়ি ফিরছিলাম
হঠাৎ করে কি যেনো হলো, আমার আর কিছুই মনে পড়ছে না
চারিদিকে এতো ভীড় কেনো
মানুষ আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে
একি পুলিশ কেনো
এই পুলিশ গুলো খুব খারাপ
তারা শুধু ঘুষ খায়, তবে কিছু ভালো পুলিশ ও আছে
আচ্ছা ব্যাপারটা কী বুঝতে পারছিনা
একটু অপেক্ষা করো, দেখছি কী হয়েছে
ওমা, এ দেখি আমার মতো আরেকজন
তাকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ গুলো
আবার আমার নাম ধরে ডাকছে
এই দাঁড়ান, এই নামটা আমার
এই যে শুনুন
ব্যাপারটা হলো কী বলোতো
তারা আমার ডাক শুনতে পাচ্ছে না
আমাকে দেখতে পারছে না
হচ্ছে টা কী এখানে
কী হচ্ছে এখানে
আমার মুঠোফোনটা ওই পেট মোটা ওসির পকেটে
ওটা পেলে তোমাকে এখনি ফোন করে বলতাম
ব্যাটা বজ্জাত পুলিশ, দেখেছো কেমন সুযোগে হাতিয়ে নিলো
এই রে মানিব্যাগ টাও তো নিয়ে গেলো
তোমার জন্য একটা টিপ কিনেছি, ওটাতো ওখানেই রয়ে গেলো
আমার ভালো লাগছে না
মানুষ গুলো কেমন করে তাকাচ্ছে
আমার ভালো লাগে না মানুষের এমন চোখ
আমি তোমার চোখ দেখতে চাই
আমার ফোনটা বাজছে মশাই
ওই যে আমার প্রিয় গানটা
শালা বধির নাকি, কল টা রিসিভ করুন
বিশ্বাস করো আজ কোনো বন্ধুর সাথে আড্ডা দিচ্ছি না
স্রেফ বাড়ি ফিরবো বলেই, রওনা দিয়েছি
‘হ্যালো’ – মোটা পুলিশটা আমার কল রিসিভ করেছে
ওপাশে কে তুমি ?
হ্যাঁ, তুমিই তো হবা আর কে হবে?
কার এতো ঠ্যাকা পড়েছে আমাকে জ্বালানোর
মা ও হতে পারে, তুমি আর মা দুজনে বড্ড বেশি জ্বালাও
সরকারি মেডিকেল কলেজ
সরকারি মর্গ
কী বিশ্রী অবস্থা বাবা
এতো নোংরা কেনো এ জায়গা গুলো
সরি, তুমি এখানেই কাজ করো
এই রুহানি তুমি এখানে কী করে এলে
এই যে আমি এখানে,
মা, তুমিও চলে এসেছো
এই তোমরা শুনছো
আমি এখানে, এই’যে আমি এখানে ; আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছি
আমি কী মরে গিয়েছি ?
তোমরা কাঁদছো কেনো ?
না, আমি মরিনি এইতো আমি
তোমাদের পাশে
তোমাদের সাথে
আমাদের ছেলেটা কোথায়
ও আসেনি, ওকে আনোনি
ও কি ঘুমিয়েছে,  রাত প্রায় তিনটে হলো
ছেলেটার আমার মতো রোগ হয়েছে
কবিতার বই পড়ে আজকাল, মেরে পিঠের চামড়া তুলে ফেলবো
এই শুনো ও যেনো আর কবিতা না পড়ে
ওকে যেনো কখনো কবিতা না পড়তে দেখি
ও কিন্তু কবিতা পড়া মাত্র প্রেমিক হয়ে উঠবে
আমি চাই না আমার ছেলেটা প্রেমিক হোক
প্রেমিকের জীবন একটা দুঃখের নদীর মতন
এই যে একজন প্রেমিক তোমার সামনে
তোমাকে ডাকা হলো আমাকে কাটাছেঁড়া করবার জন্য
তোমার কষ্ট হবে না আমি জানি
কিন্তু আমার না একটু কেটে গেলেও কষ্ট হয়
আর ওই যে কিসব মেডিসিন, উফফ বড্ড জ্বলে
তুমি কী আজ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে
আমাকে মর্গ থেকে নিয়ে যাবে
এটা আমার দাবী, আমার ভালোবাসার দাবি
আমারা বাড়ি ফিরতে ফিরতে তুমি একটা গান গেয়ো
সেই গানটা,  ” আমার পাগলা ঘোড়া রে,কই মানুষ কই লইয়া যাস?  “
গানটা শুনলে আমার নাচতে ইচ্ছা করে
ইচ্ছে করে তোমাকে দাঁড় করিয়ে
তোমার চারপাশে চক্কর খাই
তারপর দু’জনে মিলে ছুটে যাবো
প্রধানমন্ত্রীর বানানো নতুন ফ্লাইওভারে
একটা দরবার
একটা মসজিদ
একটা মন্দির
তোমার নামে নাম দিয়েছি
আচ্ছা, সেখানে কী আমার জন্য প্রার্থনা হবে ?
আমার খোদার নামে
আমার মাবুদের নামে
আমার আল্লাহর নামে
পড়ো তোমার প্রভুর নামে
বুক পকেটে লেখা আছে আজকের শেষ কবিতা
আমার কবিতা পড়ে
কখনো তুমি কেঁদেছো ?
কখনো তোমার মন কেঁদেছে ?
তোমায় নিয়ে অনেকে কবিতা লিখেছে
আমাকে গালমন্দ করেছে, আমি তাদের মতো লিখতে চাই না
ধরো,
আমার মুক্তি মিলে গেলো
আমার ভাবনা হারিয়ে গেলো
তোমার মন ও মগজ
নিমগ্ন নতুন কোনো প্রেমিকের নামে, সেও কী কবিতা লিখবে
আচ্ছা বলোতো
মানুষের মৃত্যু শোকের মেয়াদ কয়দিন??
এক দুই নাকি তিন
উত্তর হবে,
চার দিনে মিলাদ, চল্লিশ দিনে মেজবান
তোমাকে কিন্তু আগেই বলেছি আমার ছেলেকে
তুমি কখনো কবিতা পড়তে দিও না
তুমি কখনো তাকে কবিতা পড়ে শুনিয়ো না
যদি সে কবি হয়ে উঠে
তাহলে সে কষ্ট পাবে
আমার ছেলের জন্য একটা কবিতা আমি লিখেছি
সেখানে তোমার গল্প আছে
তোমার ঋতুবন্যায় ভেসে যাওয়া কষ্ট আছে
আমি চাইনা আমার ছেলে জানুক
তার মা কতো কষ্ট নিয়ে তাকে জন্ম দিয়েছে
কী ভাবছো
স্বার্থপর ?
কিছুটা তাই বটে
আমার ছেলে যদি জেনে যায় তার মায়ের কষ্ট
সে তার প্রেমিকার কষ্ট সহ্য করতে পারবে না, কারন সে প্রেমিক হয়ে উঠবে
আমার ছেলেকে আমি কষ্টের গল্প বলতে চাই না
আমি চাইনা আমাদের দু’জনের মহাপ্রলয়ে ভেসে যাওয়া
দুঃখের সময় তাকে মহাকালের পথে কাঁদিয়ে নিয়ে যাক
আমার ছেলেকে সুখের একটা গান শুনিয়ো
তোমার গান, যেখানে তোমার নাম লিখে রেখেছি
ওই গানটাতে আমার সুর তোলা হয়নি
ভায়োলিনের করুণ সুর
সেতো তোমার হাতে
আমার গিটারের তার ছিড়ে গেছে
তুমি বরং ভায়োলিন’টা হাতে নাও
কথা ছিলো
প্রথম করুণ সুর তুলবে তুমি
আমার নামে
আমার নামে
তোমার গান আমার ছেলের বুকে ; আমাদের ছেলেটা কবে আসবে পৃথিবীতে ?
প্রথম করুণ সুরে আমার শেষ যাত্রা
ভুলেও তুমি শাদা শাড়িতে হাত দিবে না
সাজবে ঠিক প্রথম দিনের মতো
তিন হাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে
সাড়ে তিন হাত কবর দেখে কখনো কেঁদে উঠবে না
তুমি বরং আমার শহরটা ছেড়েই দিও
এ পথে আর কখনো এসো না
আমার ছেলেকে সমুদ্রের নীলের গল্প বোলো
সমুদ্র ও আকাশের মধ্যবর্তী দূরত্ব ফুরোলেই
আমি ফিরে আসবো তোমাদের কাছে
আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছিলো
ভালোবাসা বলতে আমি কী বুঝি
আমি কী বলেছি জানো ?
দুটো উজ্জ্বল নক্ষত্রের সেই মধ্যবর্তী দূরত্ব,  যা চোখে খুব নিকটে
কিন্তু তাদের কখনোই দেখা হয় না নিজেদের সাথে, সেই দূরত্ব পেরিয়ে
আমি কী ঠিক বলেছি
না, আমি ঠিক বলিনি
কেনো ঠিক বলিনি
একথা তুমি জানো
তাই আর তোমাকে জানাতে চাই না
ফজরের আজানের সময় হয়ে এলো
রাত ফুরিয়ে যাচ্ছে
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে আর কিছুক্ষন বাদেই বেজে উঠবে আজানের সুর
তুমি কোথায় গেলে, মর্গে কখন আসবে
তোমাদের এই হাসপাতালের মর্গে ভীষণ ঠাণ্ডা লাগে
আমার জন্য এক প্যাকেট সিগারেট আনতে পারবে ?
ভীষণ ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছি আমি
কী করছো তুমি ?
তাড়াতাড়ি আমাকে মুক্ত করো
আমার ভালো লাগেনা এই ফ্রিজিং ব্যবস্থা
এই তোমার সাথে কী আমার বিনিময় সম্পর্ক
তুমি আসবে, আমি তাকাবো
তুমি ছুয়ে যাবে, আমার নীল হয়ে যাওয়া ঠোঁট কেঁপে উঠবে
এমন কেনো হয়
এমন কেনো হতে হয় ?
তোমাকে দেখে আজকাল ভয় হয়
মনে হয় তুমি তীর্থদলের সর্দার হয়ে উঠেছো
প্রেমিকাদের কিন্তু এসব হতে নেই
তুমি বরং আমার পাশে বসো
আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকো
তুমি কাঁদছো
কেঁদো না
পৃথিবীতে কেউ একা থাকে না
পৃথিবী শূন্যতা পছন্দ করে না
দেখবে আমার শূন্যতা একদিন শূন্য হয়ে যাবে…….

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।