1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

এবারও ফিরে গেল সরকারি বরাদ্ধ। দূর্নীতিতে নিমজ্জিত শেরপুরে মা ও শিশু কল্যাণ চিকিৎসা কেন্দ্র।

মাসুদ হাসান বাদল
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৩৩ Time View

পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন শেরপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই দূর্নীতিতে নিমজ্জিত।তদন্ত হলেও কিছুই হয় না।প্রতিষ্ঠানের সবাই লুটপাটের সাথে জড়িত।চিকিৎসার নামে চলে রোগীদের পকেট কাটা।সরকার লাখ লাখ টাকা দিচ্ছে,আছে নিরাপদ বাচ্চা প্রসবের আধুনিক ব্যবস্থা।কিন্ত মানুষ সুফল পাচ্ছে না।দূর্নীতির কারনে প্রতিষ্ঠানটি মূলত অচল হয়ে পড়েছে।সরকারি বরাদ্ধ ভাগাভাগিতে একজনের বাঁধায় এবারও টাকা ফেরত গেছে। এনিয়ে পরপর তিন বছর টাকা ফেরত গেল। ৫ বছরের মধ্যে হয়নি কোন সিজার।এসবের সাথে সরাসরি জড়িত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপপরিচালক ডাঃ পিযুষ চন্দ্র সূত্রধর ,মেডিক্যাল কর্মকর্তা (ক্লিনিক) ডাঃ মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও কতিপয় কর্মচারি।
অফিসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে গত ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অপারেশন সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য জন্য ঔষধপত্র ,আসবাপত্র ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কার দেখিয়ে সরকারি বরাদ্ধের অন্তত এক কোটি (উন্নয়ন ও রাজস্ব) টাকা মেরে দেওয়া হয়েছে। বিল ভাউচার থাকলেও ক্রয়কৃত মালমাল নেই।অর্থ নয়ছয়ে বাঁধার কারনে গত তিন বছর (ঔষধপত্র ও আসবাপত্র বাবদ)সরকারের দেওয়া ১৬ লাখ টাকা ফেরৎ গেছে সরকারি কোষাগারে।সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে চার লাখ টাকা ঔষধ ক্রয় করার জন্য বরাদ্ধ আসে।ক্রয় কমিটির সভা করে কোটেশণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঔষধ ক্রয় করার নিয়ম।ওই ঔষধ বুঝে নিবেন শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। কিন্তু এসব কিছুই করা হয়নি। অর্থ বছরের শেষ দিন ২৮জুন ঔষধ ক্রয় না করেই ভূয়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করতে বলা হয় কমিটির সদস্য সদ্য যোগদান করা শেরপুর সদর উপজেলা কর্মকর্তা ডাঃ শারমিন রহমান অমিকে।ডাঃ অমি ঔষধ না পেয়ে উর্দ্ধতনের চাপেও স্বাক্ষর করেননি।কর্মচারিরা জানিয়েছে এভাবেই প্রতি বছর টাকা শুধু টাকাই তোলা হয়।সরকার শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ার(বেষ্ট ফিডিং)কর্ণার নির্মানের জন্য ৮৫ হাজার টাকা দিলে খরচ দেখানো হয়েছে ওই কর্ণার হয়নি।চিকিৎসার প্রার্থীদের বসার একটি টুলও নেই।শুধু সরকারের পাঠানো কয়েকটা ঔষধ আছে।ব্যবস্থা পত্রে লেখা হয় ৭/৮টি করে টেষ্ট,পাঠানো হয় ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে।প্রসব সম্ভবাদের পাঠানো হয় ক্লিনিকে।কমিশনের ভিত্তিতেই চলে এসব। দীর্ঘদিন ব্যবহার হয় না বলে অকোজের পথে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার।এই সেবা কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।এ বছরের ২৩ মার্চ এখান থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়।সূত্র জানিয়েছে সরকারি টাকার ক্রয়কৃত ঔধধের গুজামিল হিসাব বারবার দেখানো হতো এই সব মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দিয়ে।ব্যবস্থা নিবেন যারা তারাই এসবের সাথে জড়িত।জানা গেছে অভিযুক্ত ডাঃ পিযুষ ২০ বছর হলো শেরপুরেই।কর্মচারিরা দোষ করলে ঘুষ নিয়ে ঘটনার ধামাচাপা দিয়ে দেন এই কর্মকর্তা।অফিস করেন না নিয়মিত।সরকারি গাড়ী ব্যবহার করে অফিস সময়ে ক্লিনিকে গিয়ে অপারেশন করে বেড়ান।
ডাঃ অমি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ভূয়া ভাউচারে স্বাক্ষর করিনি।তবে হয়রানি কারার নানা ষড়যন্ত্র চলছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও ডা: পিযুষ চন্দ্র সুত্রধর বলেছেন নিয়ম মেনেই খরচ করা হয়।কর্মকর্তাদের সাথে রশি টানাটানিতে টাকা ফেরৎ গেছে।বাকী অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে ও কিছু বিষয়ে তদন্ত হয়েছে, তবে করোনার কারণে ঝিমিয়ে পড়েছে।
এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, মোদাচ্ছের হোসেন জানান ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কেন যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা, এটা আমার জানা নেই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।