1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ঝিনাইগাতীতে সুকুমার হলেন শুকুর আলী কেশবপুরে বজ্রপাত প্রতিরোধে তালের চারা রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করলেন এমপি শাহীন চাকলাদার নালিতাবাড়ীতে সনাকের উদ্যোগে ৪০০ তালবীজ রোপন ঝিনাইগাতীতে ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা বন্ধ করে বিল্ডং নির্মানের অভিযোগের তদন্ত শুরু কেশবপুরে যুব সমাজের উদ্যোগে বজ্রপাত প্রতিরোধে তালের বীজ রোপন শেরপুরে মুজিব শতবর্ষ জেলা দাবা লীগ উদ্বোধন : প্রথমদিন দাবা ক্লাবের পূর্ণ পয়েন্ট লাভ। নালিতাবাড়ীতে মায়ের সাথে অভিমান করে শিশুর আত্মহত্যা শ্রীবরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে হেরোইনসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার সোমেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাট চলছেই,পাড় ভেঙ্গে হুম‌কি‌তে বসতবাড়ি নালিতাবাড়ীতে আখ চাষে লাভ,বাড়ছে আবাদ

বাবাকে যেভাবে দেখেছি

সরকার গোলাম ফারুক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৬১ Time View

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের এম.এন.এ মরহুম আব্দুল হাকিম সরকারের মৃত্যু বার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সনের ১৭ ই সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটার সময় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

আজকে বাবাকে নিয়ে অনেক ঘটনাই মনে পরছে। আমি তখন ক্লাশ ফাইভের ছাত্র। স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাড়ির পাশের বুড়ী ভোগাই নদীতে বড়ভাই মোস্তফা কামালের সাথে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। চতুর্দিকে অনেক মানুষ,প্রচুর মাছ ধরছেন। চেয়ারম্যান কাকু,রহমত কাকুরা মাছ দিয়ে খালুই ভরে ফেলেছেন কিন্তু আমাদের জালে মাছ নেই।
মনটা ভীষণ খারাপ, হঠাৎ করেই মোস্তফা ভাই একটা ছাপ দিলেন। আমি খালুই নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। বড় একটা মাছ জালে বাড়ি দিয়েছে বলে মনে হলো। মোস্তফা ভাই জাল টানছেন আমি অস্থির মনে অপেক্ষা করছি। জাল ডাঙ্গায় তুলার পর দেখলাম মস্তবড় একটা চিতলমাছ আটকা পরেছে। আমি লাফাচ্ছি আর চিৎকার করে বলছি বড় মাছ পেয়েছি। চিতলমাছ পেয়ে জাল ঘুটিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। কিছুদূর আসার পর চেয়ে দেখি বাবা একটা কইনচার সিটকি হাতে নিয়ে আমার খুঁজে এদিকেই আসছেন। আমি মোস্তফা ভাইকে বললাম স্কুল ফাঁকি দেয়ার কারণে বাবা আমাকে মারবেন। মোস্তফা ভাই বললেন চিতল মাছটি বের করে কাঁদে ঝুলিয়ে ফেল। আমি চটজলদি তাই করলাম। বাবা কাছাকাছি এসে চিতলমাছ দেখে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেলেন এবং একধরনের মুচকি হাসি দিয়ে বললেন অনেক বড় মাছ পেয়েছিস। আমার এখনো সেই দৃশ্য চোখে ভেসে বেড়াচ্ছে। বাবাকে নিয়ে এধরণের অনেক স্মৃতি রোমন্থন করা যায়।

বাবা ক্লাস ফাইভে বৃত্তি নিয়ে প্রাইমারী উত্তীর্ণ হয়ে চরের কোন এক বাড়ীতে লজিং থেকে আড়াই-তিন কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেটে জামালপুর জেলা স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং তখনকার সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে যথাক্রমে আই.এসসি ও বি.এসসি পাশ করে শর্তসাপেক্ষে তারাগঞ্জ হাই স্কুলে শিক্ষকতার চাকুরীতে যোগ দেন। শর্ত ছিল যুক্তফ্রন্টের মনোনয়ন পেলে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। মনোনয়ন পেয়ে বাবা চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নালিতাবাড়ী থেকে প্রথম এম.এল.এ (Member of Legislative Assembly) নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭০ এর জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামিলীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে এম.এন.এ (Member of National Assembly) নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা-উত্তর কালে শেরপুরের গভর্নর হওয়ার কথা থাকলেও পরে এড.আনিছুজ্জামান (আনিছ মোক্তার) কাকাকে গভর্নর করে বাবাকে বঙ্গবন্ধু ডেপুটি গভর্নর করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের মেঘালয়ে আশ্রয়গ্রহন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও মুক্তিযুদ্ধ করেন। মেঘালয়ে থাকাকালীন সময়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও বাবা দীর্ঘদিন একসাথে একই রুমে ছিলেন। কিছুদিন পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম অন্যত্র চলে যাওয়ায় উনার ছেলে আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে বাবার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। আশরাফ ভাইয়ের সাথে শেরপুরে মন্ত্রী থাকা অবস্থায় কোন একটি প্রোগ্রামে দেখা হওয়ার পর আমাকে বলেছিলেন হাকিম চাচা আমাকে খুব আদর করতেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সাথে বাবার খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিল। আমরা যদিও সেটা ধরে রাখতে পারিনি তবে আশরাফ ভাইয়ের স্নেহধন্যে আমি আন্তরিকভাবে উনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি এড.আব্দুল হামিদ যখন ডেপুটি স্পিকার তখন আমি উনার সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। দর্শনার্থীদের বিদায় করে হাকিম সরকারের সন্তান হওয়ার কারণে আমার হাত ধরে দু’তলায় উনার ড্রয়িং রুমে নিয়ে চাচীকে নাস্তা দিতে বলেছিলেন এবং বাবার সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক কথা বলেছিলেন,যা শুনার পর সন্তান হিসাবে আমি গর্ব অনুভব করেছি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর গত উপজেলা নির্বাচনের আগে একবার মাত্র বঙ্গভবনে গিয়েছিলাম। কড়া নিরাপত্তার কারণে এখন আর আগের মত উনার খোলামেলা হওয়ার সুযোগ নেই। একজন ঝানু পার্লামেন্টটেরিয়ান হিসাবে খ্যাতির শীর্ষে থাকা অবস্থায় উনি রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।যে বিশ্বাস ও আস্থার পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন,সেটা এড. আঃ হামিদ বলেই সম্ভব।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম ১৯২০ সনের ১৭ই মার্চ। আমার বাবার জন্মও ১৯২০ সনের ৩১শে ডিসেম্বর। সেই হিসাবে আমার বাবারও ডিসেম্বরে শতবর্ষ পূর্ণ হবে।আমি বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাসায় বাল্য জীবনে বাবার সাথে গিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর হাতের স্পর্শের শিহরণ এখনো শরীরে গেঁথে আছে।বাবা বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন এবং অনর্গল ইংরেজীতে কথা বলতে পারতেন,তারপরও বাবার পোশাক-আশাকের কারণে বঙ্গবন্ধু বাবাকে মাওলানা সাহেব ডাকতেন।বঙ্গবন্ধুর প্রতি বাবার অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক স্থাপন হয়েছিল।তারই ধারাবাহিকতায় নেত্রী ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি আমার পরিবারের নিখাদ প্রতিম ভালোবাসায় ঘাটতি নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু একটি নামই নয়। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ আর নেত্রী মোদের অহংকার,আমাদের আইডল।

বাবাকে হারিয়েছি ৩৯ বছর আগে কিন্তু এখনো দিব্যি সব চোখে ভেসে বেড়ায়। আমাদের এগার ভাইবোনদের যত্নে,দেখাশোনা ও পড়াশোনা সহ সবকিছুই বাবা খেয়াল রাখতেন।নোমান ছোট বলে আলাদা কেয়ার করা,শাহীনের ক্লাস ওয়ানে পড়া অবস্থায় রাস্তা ভুলে যাওয়ার দুঃচিন্তা,নার্গীসের জ্বরে ভূগা,জেনীর ঘনঘন রাগ করা,ফাতেমার মেডিকেলে পড়া,মাহমুদার পাতে তরকারি বেশী দেয়া,ফেরদৌসীর নিরবতা,রাহিমার চঞ্চলতা ও হোসনে আরা ফিরোজার (সাবেক ডি.জি,নায়েম) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার খেয়াল রাখা,সবই বাবা নিখুঁতভাবে মনিটরিং করতেন এবং প্রতিদিন বাড়ীর পুকুরের পাকা ঘাটে হাঁটুর উপর বসিয়ে আমাকে গোসল করাতেন। এগুলো বিস্মৃতির অতল তলে হারিয়ে যাওয়ার নয়। সবগুলোই স্মৃতিতে দৃশ্যমান।
আমার মার যত্নে বাবার কাঠের হাতলওয়ালা চেয়ারটি এখনো অক্ষত আছে। বাই সাইকেলটি মরিচাধরে নষ্ট হওয়ায় মার অনুমতিতে একজনকে দান করে দিয়েছিলাম। মা এখন সবসময় বিছানায় শুয়েই দিন কাটান। কথাবলা,হাটা,ওঠাবসা ও খাওয়া কোন কিছুই নিজে থেকে করতে পারেন না।
আজকে বাবার মৃত্যুর দিনটি মাকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। মার সুস্থতা কামনা করে বাবার জন্য দোয়া চাই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।