1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

ইলম হাসিলের ৬ উপায়

মো. আব্দুল মান্নান 
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৬ Time View

উলামায়ে কেরামের পরিভাষায় ইলম শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর একটি অর্থ হচ্ছে অনুধাবন ও উপলব্ধি করা। কেউ কেউ বলেন, ‘ইলমের অর্থ সত্যায়ন করা। চাই তা ইয়াকিনী হোক বা অন্য কিছু। আর অভিধান অনুযায়ী ইলম অর্থ ইয়াকিন বা বিশ্বাস।’‘ইলম হচ্ছে আমলের নাম। আর আমল হলো স্থায়ী জগতের স্বার্থে ক্ষণস্থায়ী জগত পরিহার করা।’ কোন মানুষের প্রকৃত মুমিন হওয়া নির্ভর করে তার ইলম হাসিলের ওপর। কারণ কোন ব্যক্তি ইলম হাসিল করা ছাড়া প্রকৃত মুমিন হতে পারে না। আর মুমিন হওয়া নির্ভর করে দুটি বস্তুর ওপর। এক. সে আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না। দুই. শরীয়ত নির্দেশিত পন্থা ছাড়া ইবাদত করবে না। ইলম হলো বান্দার প্রতি আল্লাহর প্রথম উপহার। যারা ইলম হাসিল করেন তাদেরকে আলেম বলে। সাধারণ মুমিনের চেয়ে আলেমের মর্যাদা বহু গুণ বেশি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা জানে আর যারা জানে উভয়ে কি সমান? অর্থাৎ সমান নয়। আলেমরা উত্তম।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, ‘সাধারণ মুমিনের চেয়ে আলেমের মর্যাদা সাতশত গুণ বেশি। জীবন চলার পথে, সামাজিক নানা সমস্যা ও বিপদাপদে সাধারণ মানুষকে আলেমদের স্মরণাপন্ন হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং উলামায়ে কেরামকে সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থলের মর্যাদা দান করা হয়েছে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- মূর্খতা হচ্ছে আত্মার মৃত্যু এবং জীবন যবেহ ও হায়াত ধ্বংস করার নাম। তাই কুরআনে মূর্খতা থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছে। সূরা হুদের ৪৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে- ‘আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, যেন মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত না হও।’

যারা পার্থিব জীবনের জ্ঞান ও ধন-সম্পদ নিয়ে অহমিকা করে তাদের বাহ্যিক সুখ দর্শনে কারো বিভ্রান্ত ও বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ, ওরা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো। যারা চারণভূমিতে পেটে যতদূর জায়গা হয় ততদূর খেয়ে থাকে। আর বাড়িতে যাওয়ার পর জায়গা হয় নোংরা গোয়াল ঘর কিংবা নিকৃষ্ট খোয়াড়ে। কিন্তু একজন মানুষ কি সেরকম? সে কি গরুর প্রচুর খাওয়া দেখে হিংসা বা ঈর্ষা করতে পারে? কখনো না। এটা তাকে মানায় না। অতএব মর্যাদা, গৌরব, অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্বের কিছু থাকলে তা ইলমের মধ্যেই নিহিত। যারা ইলম ধারণ করেছে তারা বাহ্যিকদৃষ্টিতে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বল, গরীব ও অসহায় মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তারাই সফল, বিত্তবান এবং মর্যাদার অধিকারী। ইলমের এই মর্যাদা লাভের জন্য শুধু পুরুষরাই নয় বরং নারীরাও আদিষ্ট। সকলের জন্য এই মর্যাদা এবং সকলের জন্য তা অপরিহার্য।‘ইলমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো বস্তু নেই। বাদশারা তো সাধারণ মানুষের শাসক কিন্তু আলেমগণ বাদশাহদের শাসক।’ ‘আলেমগণ যুগের প্রদীপ, প্রত্যেকের নিজের সময়ের বাতিস্বরূপ; লোকেরা তাদের থেকে আলো সংগ্রহকারী।’ এই মহামূল্যবান ইলম শিখতে এসে যারা ফিরে গেছে তারা চরম ব্যর্থ হয়েছে। অনেকে ইলম হাসিল করতে আসে না। আর কেউ কেউ এসেও নানা কারণে ঝরে পড়ে। সাবধান! এমন দুর্ভাগা যেন আমরা কেউ না হই। যারা ইলম শিখতে আসে না কিংবা এসেও কোনো কারণে ফিরে যায়, পৃথিবীতে তাদের চেয়ে হতভাগা কোন লোক নেই। ইলম হাসিলের জন্য অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করতে হয়। সময় ব্যয় করতে হয়। শ্রম দিতে হয় এবং অনেক গুণের অধিকারী হতে হয় কিংবা নিজের মধ্যে গুণ সৃষ্টি করতে হয়। বুযুর্গানে দীন ইলম হাসিলের জন্য ছয়টি গুণ আবশ্যক বলেছেন। যথা- এক. মেধা। আল্লাহ তা‘আলা একেবারে মেধাশূন্য কোন মানুষ সৃষ্টি করেননি। সুতরাং যারা মেধা শূন্যতার দোহাই দিয়ে ইলম অন্বেষণ করা থেকে বঞ্চিত রয়েছে তারা ভুল বিশ্বাসের সঙ্গে বাস করছে। দুই. ইলম অন্বেষণের প্রতি তীব্র বাসনা থাকতে হবে। ইলম হাসিলের জন্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সর্বোচ্চ মেধা খরচ করতে হবে। তিন. ইলম হাসিলের জন্য সবর, ত্যাগ ও মুজাহাদা করা। একজন তালেবে ইলমের জন্য এই গুণ খুবই জরুরী। এই গুণ অর্জন করা ছাড়া কেউ তালেবে ইলম হওয়ারই যোগ্যতা রাখে না। ইলম তো সবর ও চেষ্টার অপেক্ষায় থাকে। তাই এই গুণ দুটি ছাড়া ইলম হাসিলে সাফল্য লাভ করার কল্পনা করা বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। ‘যার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় কষ্টের তার শেষ জীবন হয় উজ্জ্বল।’ ইলম হাসিল করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ধৈর্য্যরে পরীক্ষা দিতে হয় এবং কষ্টসহিষ্ণু হতে হয়। নফসের সঙ্গে তুমুল লড়াই করতে হয়। আরো মনে রাখা উচিত, কেউ যদি ইলম হাসিলের জন্য নিজেকে দীর্ঘদিন আবদ্ধ না রাখে, ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে তবে তাকে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হতে হবে। ইলমের ভান্ডার থেকে মাহরুম হতে হবে। দীর্ঘসময় ইলম অন্বেষণে ব্যস্ত থাকতে হবে। এমনকি ঘরে-বাইরে, সমাজে-রাষ্ট্রে সর্বদা ইলমেরই চর্চা করতে হবে। ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, আমি আমার পরিবারের লোকদের সঙ্গে থাকার সময়ও আমার সামনে মাসআলা হাজির হয় এবং আমি ইলমী বিষয়ে মশগুল থাকি। চার. পানাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমান সময়ে প্রায় প্রত্যেক মাদরাসাতেই বোর্ডিং রয়েছে। এছাড়া ইলম শিক্ষা করতে যে খরচ লাগে এর সামর্থ্যও অভিভাবকদের আছে। পাঁচ. যোগ্য ও স্নেহপ্রবণ উস্তাদের সান্নিধ্য গ্রহণ। সার্বক্ষণিক উস্তাদের সান্নিধ্যে থেকে ইলম হাসিল করতে হবে। মনে রাখতে হবে, উস্তাদ ছাড়া শুধু বই-পুস্তক ঘেঁটে আলেম হওয়া যায় না। ছয়. ইলম অন্বেষণের জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করা, দ্রæততা অবলম্বন না করা। একজন খাঁটি আলেম হতে হলে অবশ্যই তাকে সময় দিতে হয়। সাধনা করতে হয়। এই ছয়টি বস্তু ছাড়া কেহ ইলম হাসিল করতে পারবে না। তাই যে কোন আদর্শ উস্তাদের সাহচর্য্যে থেকে সাধনা করতে পারলে আশা করা যায়, এই ৬টি গুণ অর্জনে আল্লাহ তায়ালা কাউকে বঞ্চিত করবেন না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করুক।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।