1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

শেরপুরে আওয়ামীলীগ নেতার বাড়ীতে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন।আওয়ামীলীগ নেতার স্ত্রী গ্রেফতার।

মাসুদ হাসান বাদল
  • Update Time : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৪৯ Time View

শেরপুর জেলার শ্রীবরর্দী উপজেলা আওয়ামীলীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আহসান হাবিব শাকিলের বাসার কাজের মেয়েকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে শাকিলের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার ঝুমুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শাকিল ওই উপজেলা আওয়ামীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি আশরাফ হোসেন খোকার ছেলে।

নির্যাতিত ওই গৃহকর্মীর নাম সাদিয়া উরফে ফেলি(১০)। ফেলি শ্রীবরর্দী পৌর এলাকার মুন্সিপাড়া মহল্লার গরীব কৃষক সাইফুল ইসলামের মেয়ে। শাকিল স্ত্রী ঝুমুরকে নিয়ে শহরের খামারিয়া পাড়া এলাকায় সোনালী ব্যাংকের উপর ৬তলায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভাড়া বাসায় থাকেন। অভিযুক্ত এই ঝুমুরের সাথে ৯ বছর আগে আওয়ামীলীগ নেতা শাকিলের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ঝুমুরের প্রথম পক্ষে আরও দুটি সন্তান আছে। শাকিলের দিকেও দুটি সন্তান রয়েছে।

জানা গেছে, ১১ মাস আগে ফেলিকে গৃহকর্মী হিসেবে আনা হয়। চুন থেকে পান খসলেই এই অবুঝ শিশুটিকে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে শাকিলের স্ত্রী ঝুমুর। ওই গৃহকর্মী ছোট মানুষ হলে কাজ দেওয়া হতো বড় বড়। সংসারের সকল কাজ তাকেই করতে হতো। এর ধারা বাহিকতায় অনেকদিন যাবত  মেয়েটির উপর নির্যাতন চলে আসছিল। গতকাল রাতে মেয়েটির উপর  নির্যাতন হলে তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী কে বা কারা ৯৯৯ এ জানালে পুলিশ রাত ১২টায় ওই অভিযুক্ত ঝুমুরকে ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে শেরপুর সদর থানা হাজতে পাঠিয়ে দেয়। ঝুমুরকে অভিযুক্ত করে শ্রীবরর্দী থানায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভিকটিমকে রাতেই শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থা সংকাটাপন্ন হওয়ায় আজ দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সাদিয়া জানিয়েছে শুধু নির্যাতন নয় তাকে খাবার পর্যন্ত দেওয়া হতো না। পশুর মত নির্যাতন করলেও কেউ ফিরাতো না। বাড়ী যেতে চাইলেই বেদম প্রহার করা হতো। প্রহারের যন্ত্রণায় চিৎকার করলে আরও বেশী প্রহার করতো। বাবা মা কারও সাথে দেখা করতে দেওয়া হতো না। মেয়েটি নির্যাতনের কারণে এখন তেমন কথাও বলতে পারে না। স্থানীয়রা জানিয়েছে প্রচন্ড বদ মেজাজি এই ঝুমুর মেয়েটিকে বিভিন্ন সময় প্রহার করতো । মেয়েটি চিৎকার করলেও কাউকে বাসায় আসতে দিত না।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক খায়রুল কবির সুমন জানিয়েছে মেয়েটির উপর অমানবিক নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছে। আপাদ মস্তক তার নির্যাতনের চিহ্ন রয়েেেছ। শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পেটে পানি এসে গেছে। সাদিয়া সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন ডাঃসুমন।
শেরপুর এএসপি( সার্কল) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন অভিযুক্তকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটিকে রক্ষা করতে পুলিশ সার্বিক প্রচেষ্ঠায় আছে। ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।