1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কেশবপুর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম আবারো মেয়র পদে আওয়ামী লীগের চুড়ান্ত প্রার্থী পৌরসভা নির্বাচনে নালিতাবাড়ীতে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী বাছাই শ্রীবরদী পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে আ’লীগের প্রার্থী বাছাই: বিজয়ী সফিক শেরপুর পৌর নির্বাচন : আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে শেরপুরে আনিস বিজয়ী কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা প্রতিবাদে আ’লীগের এক মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংবাদ সম্মেলন তুরস্কে হ‌বে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য,বাংলা‌দে‌শে হ‌বে আতাতুর্কের ভাস্কর্য অঝোরে কাঁদলেন অপু বিশ্বাস! দ্বিতীয় ধাপে ৬১ পৌরসভার ভোট ১৬ জানুয়ারি শেরপুরে মায়ের বিরুদ্ধে শিশুকে হত্যার অভিযোগ কেশবপুরে ৫শত বছর বয়সী বনবিবি তেঁতুল গাছটি সংরক্ষণের দাবি

কেশবপুরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে চলছে রোমান ব্রিকসের কার্যক্রম

মীর আজিজ হাসান (যশোর)কেশবপুর প্রতিনিধি।
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৮ Time View

কেশবপুরে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া অবৈধ ইটভাটা হিসেবে চিহ্নিত রোমান ব্রিকসের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাটাটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষে এলাকাবাসির পক্ষে গত ২১ অক্টোবর আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাস্তা-বারুইহাটি চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন সড়কের পাশে পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ রোমান ব্রিকস ইট ভাটাটির কার্যক্রম গত ১২ এপ্রিল (রবিবার) উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ভাটার মালিক আইন অমান্য করে গত ৫ অক্টোবর থেকে আবারও ইট ভাটাটির সকল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। ভাটা মালিক তিন ফসলি কৃষি জমিতে শতশত কৃষকের বাঁধা উপেক্ষা করে ও জনবহুল এলাকায় জোরপূর্বকভাবে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগকারী আব্দুস সাত্তার জানান, অবৈধ রোমান ব্রিকস ইট ভাটাটির সকল কার্যক্রম বন্ধ করলে এলাকাবাসী পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রেহাই পাওয়াসহ উচ্চ ফলনশীল উর্বর কৃষি জমি গুলো রক্ষা পাবে।

সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদনবিহীন কাস্তা-বারুইহাটি চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন পাকা রাস্তার ধারে ২০ নম্বর বারুইহাটি মৌজার ৫২৩ নম্বর খতিয়ানের ৮০ নম্বর দাগে ১৯৯ শতক ডাঙ্গা জমিতে রোমান ব্রিকস নামে ওই ইটভাটা অবস্থিত। সাতবাড়িয়া গ্রামের আপন দুই ভাই আবু বক্কর সিদ্দীক ও মতিয়ার রহমান এবং পাশ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের নামে ওই ভাটার কার্যক্রম ৪ বছর পূর্বে শুরু হয়। ভাটার পাশে বারুইহাটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, কিরাতী মাদ্রাসা ও মন্দির অবস্থিত। এর আধা কিলোমিটারের মধ্যে ভাল্লুকঘর বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। ভাটার গাড়িগুলোর জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও সড়কে চলাচলকারী মানুষেরা সব সময় আতঙ্কে থাকে। এই ইটভাটার কারণে এর আশপাশের জমির ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ভাটার পূর্ব দিকে মশিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি বাঁধা কপি, মাহাবুর রহমানের ধান ও জাহাবক্স মোড়লের পটল ক্ষেত রয়েছে। পশ্চিমে আব্দুল জলিল, আব্দুল গফফার ও সামজেদ পানের বরজ করেছেন। দক্ষিণ পাশে পটল চাষ করেছেন মশিয়ার রহমান ও নুর আলী। এছাড়া উত্তর দিকে রজব আলীর পটল ক্ষেতসহ অন্যরা চাষ করেছেন বেগুন ও বরবটি। এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস শীতকালীন সবজি চাষ, সেটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। একইসাথে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ও ফসলি জমির পাশে ইটভাটার কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ এবং নষ্ট হচ্ছে ফসলের ক্ষেত। এমনকি ইট তৈরি করার জন্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটির টপ সয়েল কেটে আনার কারণে জমি হারাচ্ছে তার উর্বরতা।

২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ও ২৯ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদ থেকে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে রোমান ব্রিকস ইট ভাটার কার্যক্রম চালানোর জন্য অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সে সমস্ত শর্ত না মানায় ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইটভাটা বন্ধ করতে ওই এলাকার লোকজন ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। ভাটা বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনসহ পালন করে বিভিন্ন কর্মসূচি।

২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি যশোর জেলা কার্যালয়ের পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট মিজানুর রহমান রোমান ব্রিকস সরেজমিনে পরিদর্শনকালে ইটভাটাটির অনুক‚লে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অবস্থানগত বা পরিবেশগত কোন ছাড়পত্র না পেয়ে এবং ইট ভাটার অনুক‚লে জেলা প্রশাসকের ইট পোড়ানোর লাইসেন্স না থাকায় ভাটাটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।

এছাড়া ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ইট পোড়ানোর অভিযোগে সে সময়কার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান রোমান ব্রিকসের মালিক আবু বক্কর সিদ্দীককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন।

এরপর ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর যশোর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম নওশাদ ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমানের যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রোমান ব্রিকস বন্ধ করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে রোমান ব্রিকস বন্ধের দাবিতে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রেসক্লাব যশোরে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আমেনা বেগম নামে এক নারী সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ৭০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ, পটল, ফুলকপি, ওলকপি, পাতাকপি, সিমসহ শীতকালীন সবজি নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে কয়েক শত পরিবার পড়েছেন বিপাকে। ভাটা মালিককে বিষয়টি জানালে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নাশকতা মামলার হুমকি দিচ্ছেন।

চলতি বছরের ১২ এপ্রিল (রবিবার) মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যেও ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক নিয়ে ওই ইটভাটার কার্যক্রম চালানো হলে সে সময়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা অভিযান চালিয়ে ওই ভাটাটি বন্ধ করে দেন।

ইটভাটা থেকে ১ শত ফুট দূরত্বে বসবাসকারী কৃষক নূর আলী বলেন, কয়েকদিন আগে ইটভাটার কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে। ইটভাটা বন্ধ না করলে আমাদের কৃষি জমিতে থাকা ফসল ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

উপজেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরমান গাজী ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তারা জানান, কেশবপুরে ১৬ টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ইটভাটা ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে রোমান ব্রিকস ছাড়পত্র পেয়েছে কীনা জানা নেই।

২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আয়শা সিদ্দিকা স্বাক্ষরিত একটি চাহিত তথ্য থেকে জানা গেছে, রোমান ব্রিকসের অনুকুলে এ কার্যালয় হতে কোন অবস্থানগত লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি।

রোমান ব্রিকসের মালিক আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারি কমিশনার (ভূমি) রোমান ব্রিকসের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে ভাটার কার্যক্রম চালাচ্ছি। খুব শিগগির লাইসেন্স পেয়ে যাব।

উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, ইট ভাটার কারণে পরিবেশ দূষণ হওয়ার ফলে ফসলি জমি নষ্টসহ ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

যশোর জেলা কার্যালয়ের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বলেন, যশোর জেলা কার্যালয়ের আওতাধীন যে সকল ইটভাটার বৈধতা নেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান আছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান জাহান, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।