1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
নালিতাবাড়ীতে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর ইশতেহার ঝিনাইগাতীতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক ভুমিকা বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে ৬ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা,২ প্রার্থীর বাতিল ৫ বছরেও শেষ হয়নি সড়কের নির্মাণ কাজ,ভোগান্তিতে এলাকাবাসী। ঝিনাইগাতীতে প্রাতিষ্ঠানিক গনশুনানী অনুষ্ঠিত কেশবপুরে হামজা ব্রিকস বন্ধে ৫ শতাধিক শ্রমিকের মানবেতর জীবন-যাপন কেশবপুরের পাঁজিয়ায় আব্বাস-ফজর-দুষ্টু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন কেশবপুরে বোরো ক্ষেতে গরুর বদলে মই টানছে মানুষ কেশবপুর উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বিনামূল্যে সকল নাগরিকের করোনা টিকা দিতে হবে।

অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনে ক্ষতবিক্ষত ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬০ Time View

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলণের ফলে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী দুটি এখন ক্ষতবিক্ষত। কোন প্রকার নিয়ম নীতির তুয়াক্কা না করে নদীর পাড় সহ আশ পাশের যায়গা থেকে মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলণ চলছে দিনে রাতে। প্রশাসন কখনও কখনও ব্যবস্থা নিলেও থামছে না বালু তোলার প্রতিযোগিতা।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে,চলতি বাংলা সনে দুটো নদী বালু উত্তোলণের জন্য ভোগাই নদী এবং চেল্লাখালী নদী ইজারা দেওয়া হয়। কিন্ত বালু খেকোরা ইজারা অংশ ছাড়াও সারা নদীতে শত শত শ্যালুচালিত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নির্বিচারে বালু তোলা হচ্ছে মহোৎসবে। নদীর অনেক স্থানেই আর বালু মিলছে না। বালু খেকোদের দাপটে লাল বালু শেষ পর্যায়ে। নদীতে বালু না থাকায় নদীর পাড় সহ আশ পাশের জমি থেকে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে। এখন নদীর তল দেশবোরিং পদ্ধতিতে খুঁড়ে ১৫-২০ ফুট নীচ থেকে খনিজ সম্পদ সাদা বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এতে করে নাব্যতা  সঙ্কটের  পাশাপাশি নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকি বাড়ছে। শুস্ক মৌসুমে বালু শুন্য প্রায় নদীটি পানিশুন্য হয়ে প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্রের ভারসাম্য নষ্টের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারী কোন স্থাপনার ৫০০ মিটারের মধ্যে বালু উত্তোলণ নিষেধ থাকলেও নাকুগাঁও দুই লেন সড়ক রক্ষায় হাতিপাগার এলাকায় ভোগাই নদীর পশ্চিম পাড়ে ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এবং ঘাকপাড়া সড়কের নিচপাড়া এলাকায় নদীর পুর্ব পাশে ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। সেই বাঁধের ৫০ মিটারের মধ্যে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে। এতে হুমকিতে রয়েছে দুটি বাঁধ। চেল্লাখালী নদীতেও বালু না থাকায় বালু খেকোরা বাতকুচি এলাকায় নদীর পাড়ে বাড়ীর কাছ থেকে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নাকুগাঁও এলাকায় সীমান্ত সড়কের সাথে সংযোগ ভোগাই নদীর উপর সেতুটি এখন হুমকিতে রয়েছে। যদিও সম্প্রতি ওই এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

ভোগাই নদী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের“উইলিয়াম পিক”পাহাড় থেকে ১৮৪টি ঝর্ণার পানি মিলিত হয়ে প্রবাহিত হয়ে নালিতাবাড়ীতে নাকুগাঁও স্থল বন্দরের পাশ দিয়ে নয়াবিল ইউনিয়ন হয়ে উপজেলার পৌর শহরের উপর দিয়ে মরিচপুরান ইউনিয়নে দুভাগ হয়ে গেছে। দক্ষিনের ভাগটির নাম ইছামতি আর উত্তরের প্রবাহের নাম কংস বলে ডাকা হয়। কংস নদী আবার প্রবাহিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীতে মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ ২২৮ কিমি ,গড় প্রস্থ ৯৫ মিটার। ভোগাই নদীর দুপাড়ের মানুষদের যাতায়াতের জন্য পাঁচটি ব্রীজ আর বোরো মৌসুমে সেঁচের জন্য দুটি রাবার ড্যাম স্থাপন করা হয়েছে। এই দুৃটি রাবারড্যামের মাধ্যমে নালিতাবাড়ী ও নকলা,হালুয়াঘাট ও ফুৃলপুর উপজেলার হাজার হাজার কৃষক সেঁচ সুবিধা নিয়ে বোরো আবাদ করে আসছেন। অসংখ্য মানুষ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
চেল্লাখালী নদী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো পাহাড় থেকে নেমে ঝিনাইগাতী হয়ে নালিতাবাড়ীতে পোঁড়াগাঁও ইউনিয়ন হয়ে ভোগাই নদীতে মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৫ কিলোমিটার, প্রস্থ ৫২ মিটার। নদীতে সারাবছরই পানির প্রবাহ থাকে। সেঁচ সুবিধার জন্য বাঘবেড় ইউনিয়নের সন্যাসীভিটা এলাকায় একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। বোরো মৌসুমে চারটি ইউনয়নের কৃষকগণ সেঁচ সুবিধা নিয়ে থাকেন।

নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২০১০ সালের দিকে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী স্থানীয় সাংসদ মতিয়া চৌধুরী বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভোগাই নদী খননের উদ্যোগ নেন। এরই অংশ হিসেবে নদীতে জেগে ওঠা বড়বড় চর গুলোকে শ্যালুচালিত ড্রেজারের মাধ্যমে খনন শুরু হয়। খননকৃত ভোগাইয়ের লাল বালু নদীর অভিশাপ থেকে মানুষের আশীর্বাদে (বুয়েট পরীক্ষায়) রূপ নেয়। শুরু হয় বালুর বাণিজ্যিক।

পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী নিজের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে স্থানীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে ভোগাই নদীর বিভিন্ন এলাকা বালু মহাল হিসেবে সরকার থেকে ইজারা নেওয়া শুরু করেন এবং রয়েলিটিতে বালু উত্তোলনের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এরপর বাণিজ্যিক ভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়। তবে তখন নদীর প্রকৃতি রক্ষার স্বার্থে বছরের একটা নির্দিষ্ট কিছু সময় বালু উত্তোলন প্রশাসনিক ভাবে বন্ধ রাখা হতো।

পরিবেশ ও নদী সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীর নাব্যতা ফেরাতে যথেষ্ঠ ড্রেজিং হয়েছে। এখন বালু শুণ্য হয়ে নদীই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ছে। নদীতে একেবারে বালু না থাকলে পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি পরিবেশের উপর মারাত্মক চাপ পড়ে। ফলে এভাবে চলতে থাকলে নদী গুলো এক সময় মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও নদীর তলদেশে মাটি খুঁড়ে বোরিং পদ্ধতিতে ভূ-গর্ভস্থ খনিজ সম্পদ সাদা বালু উত্তোলনের ফলে নদী হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক প্রকৃতি। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে নদী এক সময় প্রকৃতি ও বৈচিত্র হারাবে।
গত দুবছর ধরে উন্মুক্ত ইজারা দেওয়া হয়। এরপর রয়েলিটির মাধ্যমে ভোগাই জুড়ে বালু উত্তোলনে ড্রেজার মালিকদের অনুমোদন শুরু করে। এরপর থেকেই বৈধ অবৈধ ভাবে শতশত মেশিন বসিয়ে বালু তোলার মহোৎসবকে বাড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েক গুন।
শেরপুরের পরিবেশ বাদি সংগঠন“শাইন”এর নির্বাহী পরিচালক মো.মুগনিউর রহমান মনি বলেন,অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলণ করায় নদী তার নিজস্ব গতিপথ হারাচ্ছে। নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার ফলে পরিবেশ হুমকিতে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।