1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের খাদ্য বিতরণ সাংবাদিকতার শপথনামা নালিতাবাড়ীতে বিধবা নারীর জমি বেদখলের অভিযোগ বিরঙ্গনা সন্তানের বিরোদ্ধে। করোনায় আক্রান্তদের পাশে শেরপুরের এক ঝাঁক যুবক। গরীব দুঃখী মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরন বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগ শেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে গরীব মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগ শেরপুর জেলা শাখা সভাপতি মোঃশফিকুল ইসলাম ফারুক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নালিতাবাড়ী নয়াবিল ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরন শেরপুরে কমরেড আবুল বাশার ব্রি‌গেড স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ নালিতাবাড়ীতে ২৫০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

বেঁচে থাকার সংগ্রামে কেশবপুরের কালামুখো হনুমান

মীর আজিজ হাসান (যশোর)কেশবপুর প্রতিনিধি।
  • Update Time : বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৬৮ Time View

প্রতিদিন কেশবপুরে হনুমান দেখতে আসেন দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেশবপুরের মানুষ আর ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে হনুমান। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বনভূমি কমে যাওয়া ও খাদ্যের সংকটে অস্তিত্ব সংকটে কেশবপুরের হনুমান।
কেশবপুর প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, ২০০২ সালে হনুমান দলবেঁধে মানুষের ঘরবাড়িতে হামলা চালাত। তাদের খাদ্য চাহিদা ছিল প্রচুর। সেই সময় কেশবপুর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে হনুমানের খাদ্যের দাবিতে মানববন্ধন হয়। এরপর তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলাম হনুমানের জন্য প্রতিদিন ৩৫ কেজি পাকা কলা, ৪ কেজি পাউরুটি ও ৪ কেজি বাদাম সরবরাহ করার নির্দেশ দেন।

হনুমানের খাদ্য বিতরণকারী আতিয়ার রহমান জানান, সেভাবেই চলে আসছে খাদ্য সরবরাহ।
উপজেলা বন কর্মকর্তা  মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ৫ শতাধিক হনুমান রয়েছে কেশবপুরে। দিন দিন হনুমানের বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কেশবপুরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা গোপাল মজুমদার বলেন, রামচন্দ্রপুর, ব্রহ্মকাটি, দুর্গাপুর, সুজাপুর, মধ্যকুল, কেশবপুর পৌর এলাকায় বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বিচরণ করে বিরল প্রজাতির এ হনুমান। একেকটি দলে ২০ থেকে ২৫টি হনুমান থাকে। বন কর্মকর্তা মো.গোলাম মোস্তফা আরও জানান, একটি দলে একটিমাত্র পুরুষ হনুমান থাকে। কোনো গর্ভবতী হনুমান পুরুষ বাচ্চা প্রসব করলে তাকে পুরুষ হনুমান মেরে ফেলে।

দীর্ঘদিন ধরে হনুমানের ওপর পর্যবেক্ষণকারী মধ্যকুলের মিজানুর রহমান জানান, কেশবপুরে ২০-২৫টি দলে বিভক্ত হয়ে আছে হনুমান। মাঝে মধ্যে একদল হনুমান অন্য দলের এলাকায় ঢুকে পড়লে সংঘর্ষ বেধে যায়।

১৯৯৮ সালে একটি হনুমানের বাচ্চার লেজ কেটে দেয় কেশবপুর শহরের জনৈক বাসিন্দা। এরপর দল বেঁধে হনুমান থানায় অবস্থান নেয়। বন্যপ্রাণী অধিদফতরের পক্ষ থেকে থানায় গিয়ে আহত  হনুমানকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ রকম ঘটনা অনেকবার ঘটেছে।

২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দুটি হনুমানকে পিটিয়ে আহত করে থানা মোড়ের এক দোকানি। ওই সময়ও দলবেঁধে হনুমান কেশবপুর থানায় অবস্থান নেয়। তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ মো. শাহীন হনুমান দলকে বিচারের আশ্বাস দেন। হনুমানের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। তারপর হনুমান থানা চত্বর ত্যাগ করে।
শহরের বাসিন্দা চপল সাহা বলেন, হনুমানের জন্য একটি অভয়াশ্রম করা দরকার।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা বলেন, যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজ উদ্দিন খান যোগদানের পর কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনকে হনুমানের জন্য অভয়াশ্রমের জায়গা দেখতে বলেছেন। কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজ জামান ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুই দফা হনুমানের ওপর গবেষণা করেন। তার প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রাণী হনুমান। তাদের জনারণ্য পছন্দ। মানুষ যদি তাদের বিরক্ত না করে তবে মানুষের কোনো ক্ষতি তারা করবে না।
কেশবপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমীর হোসেন বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মাধ্যমে কেশবপুরের বিরল প্রজাতির কালামুখো হনুমানের জন্য ৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের কাজ চলছে।

কেশবপুরে সব সম্প্রদায়ের মানুষ হনুমানের প্রতি সহনশীল। তাদের জন্য দ্রুত অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহের দাবি করেছেন কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্তী।।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।