1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কেশবপুরে নব-নির্বাচিত মেয়র রফিকুল ইসলামকে ফুলের শুভেচ্ছা প্রদান কেশবপুরে ঘাঘা যুব সমাজের উদ্যোগে বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত কেশবপুরে ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক বন্যহাতি ও দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে টিকে আছে বালিজুরী গ্রামের খ্রিষ্ঠ সম্প্রদায়ের অর্ধ শতাধিক পরিবার নালিতাবাড়ীতে পুলিশের ৭ মার্চ পালন ও আনন্দ উদযাপন শেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ মার্চ পালিত। অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিল পুলিশ। ঝিনাইগাতী বালু দস্যুদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত গারো পাহাড় কেশবপুরে এক ডাক্তারের বাড়ীর কাজের মহিলার অবৈধ গর্ভপাত এলাকায় চাঞ্চল্য কেশবপুরে হ্যাট্টিক জয়ী কাউন্সিলর বিপুল ওয়ার্ডবাসীর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন

কেশবপুরে মাদ্রাসা প্রধানের বিরুদ্ধে ট্রাষ্ট সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ

মীর আজিজ হাসান (যশোর)কেশবপুর প্রতিনিধি।
  • Update Time : শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫২ Time View

যশোরের কেশবপুরে ফতেপুর অহেদুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে ট্রাষ্ট সম্পত্তি ও মাদ্রাসা পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ফতেপুর গ্রামের মৃত রজব আলী খাঁর ছেলে ও মাদ্রাসার সূরা সদস্য শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তার আপন চাচা ফতেপুর গ্রামের মরহুম আলহাজ্ব শওকাত আলী খাঁ ২০১১ সালে ফতেপুর অহেদুল উলুম নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারী তিনি ৩৫ নং ধর্মপুর মৌজায় তার জমি থেকে উক্ত মাদ্রাসার নামে প্রথমে ৩ একর ৬০ শতক, একই সালের ১৫ ডিসেম্বর ৫ একর ০৯ শতক, এরপর পর্যায়ক্রমে কেশবপুর শহরের পশু হাসপাতালের সামনে রওশন মঞ্জিল সহ আরো ৪ টি দলিল করে সর্বমোট ৬টি ট্রাষ্ট দলিলের মাধ্যমে অত্র মাদ্রাসা কল্যান ট্রাষ্টের নামে প্রায় ১২ একর অর্থাৎ প্রায় ৩০ বিঘা জমি দান করেন। ২০১৪ সালের ২ জুলাই শওকাত আলী খাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনিই মাদ্রসার সকল কার্য্যক্রম গঠিত সূরা সদস্যদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালিত করতেন। তার মৃত্যুর পর মনিরামপুর উপজেলার মাদানি নগর কওমী মাদ্রসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি ওয়াক্কাস আলীকে সভাপতি ও মাদ্রসা মুহতামেম মাওলানা মুফতি হাবিবুল্লাহকে সেক্রেটারী করে মোট ১৯ সদস্য বিশিষ্ট মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

চাচা মৃত্যুর আগে ওছিয়ৎ করে যায় যে, ট্রাষ্ট দলিল মোতাবেক মাদ্রাসার নামে দান করা ট্রাষ্ট সম্পত্তি পরিচালনার জন্য তার স্ত্রী বা ভাই অথবা ভাইপোদের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে প্রধান করে ট্রাষ্ট কমিটি এবং ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে। যার নির্দেশনা তিনি ট্রাষ্ট দলিলে উল্লেখ করেছেন। মাদ্রাসার বর্তমান মোহতামেম হবিবুল্লাহ অসৎ উদ্দেশ্যে ট্রাষ্ট সম্পতির অর্জিত অর্থ তছরুপের জন্য অদ্যাবধি কোন ট্রাষ্ট কমিটি গঠন করেননি। ইসলামী ব্যাংক কেশবপুর শাখায় ঐ মাদ্রাসার নামে যে ব্যাংক একাউন্ট খোলা রয়েছে তাতে ট্রাষ্ট দাতা পরিবারের কারো নাম নেই। মাদ্রাসা প্রধান হাবিবুল্লাহ তার একজন অনুসারী কামরুজ্জামানের নামে এই এ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তাছাড়া মাদ্রাসা প্রধান মুফতি হাবিবুল্লাহ নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না এবং বিভিন্ন অজুহাতে মাদ্রসা চলাকালিন সময়ে বাইরে অবস্থান করে থাকেন এবং অধিকাংশ সূরা সদস্যদের না ডেকে তার পছন্দের লোকদের নিয়ে সূরা মিটিং করেন। ট্রাষ্ট সম্পত্তির টাকা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন- ভাতার কাজে খরচ না করার কথা উল্লেখ থাকলেও মোহতামেম সেটি তোয়াক্কা না করে এই টাকা থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। দারুল উলুম দেউবন্দ ও বেফাকুল মাদারাসীল আরাবিয়া (কওমী মাদ্রাসা) বোর্ডের নীতিমালা না মেনে নিজের মত করে মাদ্রাসা পরিচালনা করে থাকেন।

অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রতি বছর এই ট্রাষ্ট সম্পত্তির মধ্যে কেশবপুর রওশনারা মঞ্জিল থেকে ৬ লক্ষসহ প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা মাদ্রাসার নামে আয় হয়ে থাকে, কোন রকম মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়াই রওশন মঞ্জিল থেকে প্রতিষ্ঠানের মোহতামেম এ্যাডভান্স হিসেবে আরো ৪ লক্ষ টাকা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে গ্রহন করেছেন। তার ইচ্ছেমত বাৎসরিক একটা আয়-ব্যায়ের হিসাব তৈরি করেন। আয়ের উৎস খাত বা অংকের কোন হিসাব তিনি দেন না। মাদ্রসার নামে ধান আদায়সহ বিভিন্ন আদায়ের কোন হিসাব তিনি কমিটিকে দেন না। মাদ্রসা মোহতামেমের এহেন অনিয়ম-দূর্ণীতির বিষয় সূরা কমিটির অনেকেই জানেন এবং শোনেন। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ফিরিয়ে আনতে ট্রাষ্ট দলিল অনুসারে ট্রাষ্ট কমিটি গঠন, ব্যাংকে নতুন এ্যাকাউন্ট খোলাসহ মাদ্রসা মোহতামেমের সকল অনিয়ম-দূর্নীতির তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অধিকাংশ সূরা সদস্য ও এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে ফতেপুর অহেদুল উলুম মাদ্রাসার মোহতামেম মাওলানা মুফতি হাবিবুল্লাহর সাথে কথা হলে তিনি ট্রাষ্ট সম্পত্তির জন্য আলাদা কোন ট্রাষ্ট কমিটি ও ব্যাংক একাউন্টে ট্রাষ্ট দলিল দাতা পরিবারের কোন সদস্য না থাকার কথা শিকার করে বলেন, এত বড় মাদ্রাসা পরিচালনা করতে গেলে তো একটু-আদটু ত্রুটি বিচ্যুতি হয়েই থাকে। ভবিষ্যতে এটি সুধরিয়ে নিয়ে মাদ্রাসাটি সঠিকভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করব।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, সুরা সদস্য ও ট্রাষ্ট দাতা পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ মোতাবেক চলতে হবে। এর ব্যাতিক্রম ঘটলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম.এম আরাফাত হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।