1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টির মানববন্ধন ঝিনাইগাতীতে আর্থিক সংকটে মেয়ের চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না দরিদ্র পিতা না‌লিতাবাড়ী‌তে কমরেড আবুল বাশার ব্রিগেডের উদ্যোগে পুজা মন্ডপে স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ ঝিনাইগাতীতে সংসদ সদস্য ফজলুল হকের পূজা মন্ডপ পরিদর্শন নালিতাবাড়ীতে গাছ কেটে র‌শি দি‌য়ে টান দিলে মাথায় পড়ে শ্রমিক নিহত জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনায় সুশাসনের ফল সকল ধর্মের মানুষ পাচ্ছে। মতিয়া চৌধুরী শ্রীবরদীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা “যতক্ষণ শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ”ম‌তিয়া চৌধুরী নালিতাবাড়ীতে মা মেয়েকে সাতজনে মিলে গণধর্ষণ: গ্রেফতার ২ নালিতাবাড়ীতে শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেরপুরের মন্ডা খেতে ভারি মজা !

মাসুদ হাসান বাদল
  • Update Time : শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩১৬ Time View

“শেরপুরে মন্ডা খেতে ভারি মজা” এমন কথা প্রচলিত বহু বছর আগে থেকে।তবে প্রথম মন্ডার যাত্রা শুরু হয় ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। কিংবদন্তি আছে বাংলা ১২৩১ সালে মন্ডা নামক এই মিষ্টির যাত্রা শুরু মুক্তাগাছার তৎকালিন জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর রাজদরবারে।আর এর কারিগর ছিলেন মুর্শিদাবাদের রাজদরবার থেকে আসা জনৈক গোপাল।জমিদার অধ্যুষিত মুক্তাগাছা ও শেরপুরের জমিদারদের সাথে আতিœয়তা ও কর নেওয়া দেওয়ার সম্পর্ক ছিল সুদৃঢ়।এই সুবাদেই দুই অঞ্চলের জমিদারদের মধ্যে নিয়মিত আসা যাওয়া ছিল।ওই অঞ্চলের জমিদাররা যখন শেরপুর আসতেন তখন জমিদারদের প্রিয় খাদ্য বিলাসের তালিকায় মন্ডা থাকতো অবধারিত।আর মন্ডা বানাতে সাথে আনতেন কারিগর।জমিদারদের বৈঠক,নানা আনন্দ বিনোদন স্থানের কাছে কারিগররা চূলা তৈরি করে মন্ডা বানাতেন।তখন থেকেই শেরপুরে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়া গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যেত বলে আগত কারিগররা উন্নত মানের মন্ডা বানাতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন।ওই কারিগরদের কাছ থেকে শেরপুরের বেশ কিছু কারিগর মন্ডা তৈরির কৌশল রপ্ত করে।পরবর্তিতে মুক্তাগাছা থেকে আর কারিগর এনে মন্ডা তৈরি করতে হয়নি।শেরপুরের কারিগররাই জমিদারদের এই সেবাটি দিতেন।তবে তখনও প্রজারা এই মন্ডার স্বাধ নিতে পারতেন না।অভিজাতরাই এই মন্ডার স্বাধ নেওয়ার এক চেটিয়া ক্ষমতা ভোগ করতেন।জমিদার আমল নিস্তেজ হওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক ভাবে মন্ডার ব্যবহার আস্তে আস্তে শুরু হয়।
শেরপুরের বিখ্যাত মন্ডার খ্যাতি আগে থেকেই স্থানীয়, আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মোটমোটি কাছের সব রাষ্ট্রেই আছে।রাতে বাড়ী ফেরার সময় আদরের সন্তানের জন্য বাবারা ২/৪টি মন্ডা পকেটে তুলে নেওয়ার অভ্যাস পুরনো।সদ্য বিবাহিতরাও রাতে নতুন বধূকে খুশি করতে মন্ডা নিতে ভুল করে না।শেষ বিদায় বেলায় মন্ডা খাওয়ার আবদার স্বজনদের কাছে তো থাকেই।আতিœয়বাড়ী বেড়াতে গেলে মন্ডার প্যাকেট একটা লাগবেই।প্রতিবেশী রাষ্ট্র বিশেষ করে কোলকাতা মেঘালয় আসামের আত্বিয়দের আবদর থাকে শেরপুর থেকে রওনা দেওয়ার সময় যেন টাটকা মন্ডা সাথে নেওয়া হয়।এখানের সরকারি বেসকারি বৈঠকের আপ্যায়নে মন্ডা না থাকলে চলেই না। ইতিমধ্যে ই-কামার্স বা জেলা ওয়েব সাইট আওয়ার শেরপুরসহ বেশ কিছু অল লাইন এখন অন লাইন অর্ডারে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে এই মন্ডা। জানা গেছে কেবল মাত্র অনলাইন গ্রাহকদের মাধ্যমে মাসে মণ তিনেক মন্ডা অন লাইনে বিক্রি হচ্ছে।এই মন্ডার এখানে বাজার দর প্রতিকেজি সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা।প্রতিটি মন্ডার দাম বিশ টাকা।আগে সকল মিষ্টির দোকানেই কমবেশী মন্ডা তৈরি হতো।নানা কারণে অনেকেই মন্ডা এখন আর তৈরি করে না।তবে অনুরাধা,আদি গিরীশ,পার্থ মিষ্টান্ন ভান্ডার,দূর্গা চরণ ও স্বদেশ মিষ্টান্ন ভান্ডার এখনও স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।এসব দোকানে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ছেলে যুবক বুড়োদের মন্ডা খাওয়ার ধুম পড়ে।আর দিনে দুপুরে সামান্য ক্ষুদায় অনেকেই ঝটপট বিশুদ্ধ একটি মন্ডা ও এক গøাস পানি খেয়ে ক্লান্তি মিটিয়ে নেয়।
মন্ডা ব্যবসায়ী ও কারিগর সূত্রে জানা গেছে, মন্ড তৈরির প্রথম শর্ত খাঁটি দুধের ছানা।ছানা দিয়ে তৈরি করা হয় ক্ষীড়।এই ক্ষীরের সাথে সামান্য চিনি ও এলাচ দানা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ কড়ায়ে জাল দিলে ময়দা রঙের সাদা ধপধপা কায়ের মত তৈরি হয়।ছানা যত টাটকা হবে মন্ডাও তত সুস্বাধু হবে। মিষ্টি দোকানী সূত্র জানায় মন্ডার কারিগররা শ্রমিকদের মধ্যে একটু ভিন্ন প্রকৃতির।ওদের বেতন ও কদর মলিকদের কাছে বেশী হয়ে থাকে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাযায়, ছানা, ক্ষীড়, এলাচি ও চিনির সমন্বয়ে মন্ডা উৎপাদন হওয়ায় এতে রয়েছে অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ, সি, ডি, বি-১২,প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, রিবোফ্লাভিন, ম্যাগনেশিয়াম, নিয়াসিন।নিয়মিত মন্ডা খেলে শরীরের হাড় সুঠাম হয়।অনেকেই মনে করে মন্ডা কামশক্তি বৃদ্ধি হয়।চিনির পরিমান কম থাকে বলে ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত ভাবে মন্ডা খেতে পারেন।যাদের সরাসরি দুধ খাওয়া সমস্যা তারা মন্ডার স্বাধ নিয়ে শরীরের দুধের চাহিদা মিটাতে পারে। অনুরাধা মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারি পাপ্পি দে জানিয়েছে শেরপরে কৃষকদের উৎপাদিত খাঁটি দুধ এই শিল্পটিকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে।খাঁটি দুধ উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ঋণদানসহ সরকারি সুবিধা দিলে এখানে মন্ডাসহ নানান মিষ্টির ব্যাপক বাজার সৃষ্টি হতে পারে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।