1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
নালিতাবাড়ীর গোপাল সরকার সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের শুভেচ্ছা নালিতাবাড়ীতে বৃদ্ধাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, কারাগারে পুত্রবধূ ও নাতি। নালিতাবাড়ীতে ওয়ার্কার্স পার্টির কমরেড অমল সেন স্বরণে শীতবস্ত্র বিতরণ নালিতাবাড়ীতে বিটিসিএল অফিস বেহাল,টেলিফোন সংযোগ বিহীন । শেরপুরে ওয়ার্কার্স পার্টির শীতবস্ত্র বিতরণ ঝিনাইগাতীতে বিনাচিকিৎসায় ৮বছর ধরে শিকলে বন্দি ভারসাম্যহীন আখি পাবলিক বাসে চড়ে ঢাকায় ফিরলেন মতিয়া চৌধুরী “ছোট দেশ হলেও বড় বড় দেশ যা করে আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই”মতিয়া চৌধুরী নালিতাবাড়ীতে সংরক্ষণের অভাবে গণকবর নদীতে বিলীন হওয়ার পথে ! নালিতাবাড়ীতে কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ভালোবেসে ৬০ একরের দীঘি খনন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩২২ Time View

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
পৃথিবীতে ইতিহাস কাঁপিয়ে দেওয়া প্রেম কাহিনী অনেক আছে। কিন্তু এমন প্রেম কাহিনী খুব কমই আছে যার সাক্ষী এখনো পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর সৃষ্টি তাজমহলের কথা যদি ধরা হয়, তাহলে এমন নিদর্শন পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ অনন্য কীর্তির পেছনে ছিল একটি প্রেমের গল্প। আর এক প্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন কক্সবাজারের টেকনাফের মাথিনের কূপ। টেকনাফ থানায় অবস্থিত কূপটির নিথর জলে মিশে আছে বিষাদ আর বেদনাবিধুর এক অমর প্রেমের গল্প। জমিদার কন্যা মাথিন ও পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্যের অতৃপ্ত প্রেমের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই কূপটি। প্রেমের এই নিদর্শন দেখতে প্রতিবছর ভীড় করে পর্যটকরা।
তেমনি স্ত্রীকে ভালোবেসে ৬০ একরের এক দীঘি খনন করেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়। দীঘিটির নাম সুতানাল দীঘি। দীঘিটি কে কখন কোন উদ্দেশে খনন করেছিলেন তার ইতিহাসনির্ভর কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে জানা যায়,মোগল আমলের শেষের দিকে এ গ্রামে সামন্ত রাজার বাড়ি ছিল। আবার কেউ বলেন এখানে বৌদ্ধ বিহার ছিল। কথিত আছে সামন্ত রাজার স্ত্রী কমলারাণীকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাণী তখন রাজাকে বলেন, ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে আপনি এমন কিছু দান করুন যা যুগযুগ ধরে মানুষ মনে রাখে। সে মতেই রাজা তখন সিদ্ধান্ত নিলেন অবিরাম একরাত একদিন সুতা কাটা হবে। যে পরিমান সুতা হবে সেই সুতার সম পরিমান লম্বা এবং প্রশস্ত একটি দীঘি খনন করা হবে। এলাকার জনগণ দীঘির জল ব্যবহার করবে। আর তোমাকে স্বরণ করবে। এরপর দিনের পর দিন খননকাজ চলে। নির্মিত হয় বিশাল এক দীঘি। এক পাড়ে দাঁড়ালে অন্য পাড়ের লোক চেনা যায় না। কথিত আছে খননের পর দীঘিতে জল ওঠেনি। জল না ওঠায় সবাই চিন্তিত। কমলারাণি তখন স্বপ্নাদেশ পান “গঙ্গাপুজা কর নরবলি দিয়া,তবেই উঠিবে দীঘি জলেতে ভরিয়া।” স্বপ্ন দেখে রাণি চিন্তিত হয়ে পড়েন। নরবলি না দিয়ে রাণি গঙ্গামাতাকে প্রণতি জানানোর জন্য মহাধুমধামে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দীঘির মাঝখানে গঙ্গাপুজার আয়োজন করা হয়। কমলারাণি গঙ্গামাতার পায়ে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন,“কোন মায়ের বুক করিয়া খালি,তোমারে দিব মাতা নরবলি। আমি যে সন্তানের মা,আশায় করিয়া ক্ষমা কোলে তুলিয়া নাও। মা পুর্ণকর তোমার পুজা।” হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দে দীঘিতে জল উঠতে লাগলো। লোকজন দৌড়ে পাড়ে উঠতে পাড়লেও দীঘির টইটুম্বুর জলে রাণি তলিয়ে গেলেন। কমলা রাণি আর তীরে উঠতে পাড়েনি। সেই থেকে কমলা রাণি বা সুতানাল দীঘি নামে পরিচিতি পায়।
উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে মধ্যমকুড়া গ্রামে ৬০ একর জমির উপর দীঘিটি অবস্থিত । উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দুরে দীঘিটির অবস্থান। দীঘিটি কেন্দ্র করে প্রতি বছর সৌখিন মৎস্য শিকারিদের মিলন মেলায় পরিনিত হয়। দুরদুরান্ত থেকে মৎস্য শিকারী ও উৎসুক মানুষের আনাগোনায় এলাকার পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসব মুখর। এ দীঘির মাছ খুব সুস্বাদু বলে প্রশংসা রয়েছে।
১৯৮৩ সালে এই দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে“সুতানালি দীঘিরপাড় ভুমিহীন মজাপুকুর সমবায় সমিতি।”বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ১১৮ জন। সব সদস্যই দীঘির পাড়ে বসবাস করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।