1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগের মাস্ক,সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ শেরপুরের বিশিষ্ঠ শিল্পপতি আলহাজ ইদ্রিস মিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল। শেরপুরে আলু সরকারি মূল্য কমিয়ে দেওয়ায় চাষিদের ক্ষোভ। শ্রীবরদীতে আরিয়ান সুপার সপ উদ্বোধন নালিতাবাড়ীতে ক্ষতবিক্ষত ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী ইজারা বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন শেরপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন করোনায় আক্রান্ত মহা ধুমধাম করে এক সাথে দুই প্রেমিকাকে বিয়ে যুবকের! কেশবপুরের ইফ্ফাত আফরিন মিম মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ৩২তম শেরপুরের জেলা জজসহ পরিবারের সবাই করোনায় আক্রান্ত। কেশবপুরের কৃতি সন্তান করোনাযোদ্ধা ডাক্তার হাসনাত আনোয়ার কোভিড-১৯ আক্রান্ত

চরাঞ্চলে সাদা বালু পাকা মরিচের রঙে বর্ণিল।

মাাসুদ হাসান বাদল
  • Update Time : শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১
  • ৫৪ Time View

শেরপুরে জেলার ব্রহ্মপুত্র নদ ও দশআনি নদীর অববাহিকা ঘিরে বিশাল চরাঞ্চল ব্যাপি চাষ হয় কাঁচা মরিচ। অনেক দিন আগে থেকেই এই অঞ্চলে মরিচ চাষ জনপ্রিয় ও লাভ জনক।তবে আস্তে আস্তে নদী ভরাট হয়ে চর বড় হচ্ছে সাথে সাথে মরিচ চাষের আকার,পরিমানও বাড়ছে। এই বিশাল পরিমান চর ভূমি অঞ্চলে লাগানো গাছে থোঁকাথোঁকা মরিচ এখন পেঁকে লাল হয়ে আছে। চরাঞ্চলের চাষিরা গাছ থেকে ওই লাল টুকটুকে পাঁকা মরিচ তুলে তপ্ত বালুতে পলিথিনের উপর ছড়িয়ে রোদে শুকাচ্ছে। তপ্ত সোনালী রোদে শুকানো লাল মরিচের রঙে চরাঞ্চলের ধুধু সাদা বালু বর্ণিল হয়ে উঠেছে। দূর থেকে মনে হয় সাদা বালুতে আগুন লেগেছে। সামানে ঝড় বৃষ্টির দিন আসছে।নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চল ভেসে যাবে। এই কাঁচা মরিচ গাছ গুলোর নীচে পানি জমলে গাছ মারা যাবে,ঝড়েও ক্ষতি হবে মরিচের।গাছ গুলোর বয়সও শেষ দিকে, প্রায় ৬ মাস হয়ে গেছে।

জানা গেছে গত আশ্বিন কার্ত্তিক মাসে চরাঞ্চলের বিশাল বালুময় এলাকায় এ গাছ গুলো লাগানো হয়েছে। লাগানোর দেড় মাসের মাথায় গাছে মরিচ ধরা শুরু হয়। তখন থেকেই কাঁচা মরিচ বিক্রি শুরু।মাঘ ফাল্গুন মাসে মরিচ পাঁকা শুরু হয়। এ বছরে লাগানো গাছ থেকে সর্বশেষ উৎপাদন পাঁকা মরিচ সংগ্রই সর্বশেষ মরিচ সংগ্রহ।কদিন পর এই গাছ মারা যাবে। লাগানো হবে পাট। কেউ উৎপাদনের পুরোটা কেউ অর্ধেক মরিচ এখন পর্যন্ত শুকানো শেষ করতে পেরেছে। শেষ বারের মত দ্রæত গাছ থেকে তুলা হচ্ছে মরিচ। তাই চাষিদের বাড়ীর আবাল বৃদ্ধ বণিতা এখন সবাই মাঠে। খাবার ও পানি সাথে নিয়ে কৃষক কৃষাণী কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা অবদি মরিচ তুলা ও শুকানোর কাজে নেমে পড়েছে।ঝড় বৃষ্টিতে আধা শুকনা মরিচ ভিজে যাওয়ার ভয়ে রাতেও ঘুম জেগে থাকতে হচ্ছে শুকাতে দেওয়া মরিচের পাশে । আরও অন্তত ১৫ দিন ব্যাপি মরিচ তুলা ও শুকানোর উৎসব চলবে। শেরপুর জেলা সদর,শ্রীবরর্দী ও নকলা উপজেলার বৃহত্তর চরাঞ্চল কামারের চর,চরশেরপুর,চরপক্ষিমারি,ঝগড়ার চর,শিমলচরা,চন্দ্রকোণা,চরঅষ্টাধর বিশাল এলাকার জুরে কাঁচা মরিচের চাষ হয়। শেরপুর জেলার সংলগ্ন জামালপুর জেলার ইসলামপুর,মেলান্দ,দেওয়ানগঞ্জ,বাহাদুরাবাদ ওই দিকে সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর অববাহিকায় হাজার হাজার একর চরাঞ্চলময় বালু জমি জুড়ে মরিচ শুকানোর ধুম পড়েছে বলে চাষিরা জানিয়েছে।মরিচ উৎপাদন ও বিক্রিতে এই ৩/৪ জেলার উৎপাদনকারিদের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। চরাঞ্চলের একদিকে সবুজ মরিচ গাছ ও সবজি অন্যদিকে গাছের পাশেই বালুতে শুকাতে দেওয়া লাল মরিচের দৃশ্য আর শুকনা মরিচের মুহুমুহ ঝাঁঝালো বাতাসের গন্ধ এলাকাজুরে এখন ভিন্ন এক পরিবেশ বিরাজ করছে। চলছে শুকনো মরিচ বিক্রির ধুম।

চরাঞ্চলের সংশ্লিষ্ঠ বাজার গুলো এখন মরিচ চাষি,পাইকার,শ্রমিক,দালাল,খুচরা কারবারি,ঠেলাগাড়ী,ট্রাকের আনাগুনায় সরগরম। মরিচ চাষি মোবারক আলী জানিয়েছে ৬ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে মরিচ আবাদ করে এই মাসটার জন্য অপেক্ষা করি। এই মাসেই শুকনা মরিচ বিক্রি করে মোটা অংকের একটা টাকা পাই। মোবারক আরও বলেন ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৫০শতাংশ জমিতে মরিচ করেছি। বিক্রি করতে পারবো ১লাখ ১০ হাজার টাকা।প্রতিমণ শুকনো মরিচ(মান অনুযায়ি) বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার পর্যন্ত। অনেক কৃষকের অভিযোগ, আবাদ চলা কালিন কীটনাশক কোম্পানীর লোকেরা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহারে অনুপ্রাণিত করে। ফলে উৎপাদনে নানা সমস্যা ও খরচ বেড়ে যায়। চাষিরা উৎপাদন কালিন সহজ শর্তে মাঠেই ক্ষুদ্র আকারে ব্যাংক ঋণ ও সন্মিলিত ভাবে মরিচ সংক্ষণের জন্য উৎপাদন এলাকায় আধুনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন সরকারি গুদাম ঘর চেয়েছেন।
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক ড.মোহিত কুমার দে জানিয়েছেন জেলায় মরিচ উৎপাদনে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১শ ৮০ হেক্টর ।উৎপাদন হয়েছে ১হাজার ২শ২১ হেক্টের জমিতে। কাঁচা মরিচ এই অঞ্চলের কৃষকদের আশির্বাদ ফসল। শুকনো মরিচ সংরক্ষণ স্থানীয় প্রযুক্তি ভাল তবে সরকার বড় আকারে ব্যবস্থা করলে আরও ভাল হয়। কৃষি বিভাগের লোকজন সর্বদায় মাঠে থাকে। যে কোন উৎপাদন সংক্রান্ত সমস্যায় কারও দারহস্ত না হয়ে সরাসরি কৃষি বিভাগের সাথে যোগযোগ করতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন ড.মোহিত।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।