1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

নালিতাবাড়ীতে ক্ষতবিক্ষত ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী ইজারা বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৭১ Time View

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
“নদী বাঁচাও নালিতাবাড়ী বাঁচাও” এই  স্লোগানকে সামনে রেখে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা সুধী সমাজের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার(১১ এপ্রিল) সকালে ঘন্টা ব্যাপী উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন শেষে ইউএনও-র কাছে স্বারক লিপি দেওয়া হয়েছে।
জানাগেছে,ক্ষতবিক্ষত ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী দুটো সরকারী ভাবে এক বছরের জন্য(১৪২৮ বাংলা সনের) আবারো ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই ইজারা বাতিলের দাবীতে উপজেলার সুধী সমাজের আয়োজনে মানববন্ধন শেষে ইউএনও-র কাছে একটি স্বারক লিপি দেওয়া হয়।
নালিতাবাড়ী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম খোকনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- সাংবা‌দিক এমএ হাকাম হীরা,বিপ্লব দে কেটু, আব্দুল মান্নান সোহেল, সাইফুল ইসলাম,ম‌নিরুল ইসলাম ম‌নির। সূধীজনের পক্ষে প্রিন্সপাল মুনীরুজ্জামান, বিধান সরকার শিবু, অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন রানা, সহকারী শিক্ষক কালাচান, কমল দেবনাথ, শিক্ষার্থী দোহা বৃষ্টি প্রমুখ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে,দীর্ঘদিন যাবত পাহাড়ি বালুর স্তর পরে ভোগাইয়ের তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্যতা হারায়। ফলে পাহাড়ি ঢলে নদীর পাড় ভেঙে প্রতিবছর আকষ্মিক বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতো। এমতাবস্থায় খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২০১০ সালের দিকে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী স্থানীয় সাংসদ মতিয়া চৌধুরী বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভোগাই নদী খননের উদ্যোগ নেন। এরই অংশ হিসেবে নদীতে জেগে ওঠা বড়বড় চর গুলোকে শ্যালুচালিত ড্রেজারের মাধ্যমে খনন শুরু হয়। খননকৃত ভোগাইয়ের লাল বালু নদীর অভিশাপ থেকে মানুষের আশীর্বাদে (বুয়েট পরীক্ষায়) রূপ নেয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী নিজের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে স্থানীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে ভোগাই নদীর বিভিন্ন এলাকা বালু মহাল হিসেবে সরকার থেকে ইজারা নেওয়া শুরু করেন এবং রয়েলিটিতে বালু উত্তোলনের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এরপর বাণিজ্যিক ভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়। তবে তখন নদীর প্রকৃতি রক্ষার স্বার্থে বছরের একটা নির্দিষ্ট কিছু সময় বালু উত্তোলন প্রশাসনিক ভাবে বন্ধ রাখতে হতো।
পরবর্তীতে স্থানীয় সাংসদ মতিয়া চৌধুরীর অর্থে বালু মহাল ইজারা বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয় ভাবে ব্যাবসায়ীরা ইজারা নেওয়া শুরু করে। এরপর থেকেই বৈধ অবৈধ ভাবে শতশত মিশিন বসিয়ে কোননিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীতে বালু না থাকায় নদীর তল দেশ খুঁড়ে ১৫-২০ ফুট নীচ থেকে খনিজ সম্পদ সাদা বালু উত্তোলন এবং নদীর পার ভেঙে ক্ষত বিক্ষত করছে। এতে করে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকি বাড়ছে। শুস্ক মৌসুমে বালু শুন্য প্রায় নদীটি পানিশুন্য হয়ে প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্রের ভারসাম্য নষ্টের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেলেনা পারভীন বলেন,ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী দুটির ইজারা বাতিলের দাবীতে একটি লিখিত স্বারক লিপি পেয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী নদী দুটির সরকারী ভাবে ইজারা দেওয়ার সকল কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখন এই স্বারক লিপি আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।