1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ঝিনাইগাতীতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে ইউপি সদস্যের হাতে চেয়ারম্যান প্রহৃত ঝিনাইগাতীতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমানের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল কেশবপুরে ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জন করোনা পজিটিভ নালিতাবাড়ীতে মাদকসেবী,মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোরগ্যাং সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন। সাংবাদিক এমএ হাকাম হীরার মায়ের ইন্তেকাল “বছরে এক লক্ষ ব্যাগ রক্তের যোগান দেবে জাগ্রত ব্লাড ডোনার’স ক্লাব” ”কত মাইনষ্যে ঘর পাইলো, আমি কিছুই পাইলাম না” কেশবপুরে রোগযন্ত্রনা সইতে না পেরে বৃদ্ধার আত্মহত্যা কেশবপুরে পুকুর থেকে কাঠ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার সোহাগপুর বিধবা পাড়ায় শহিদ স্মৃতি সৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

স্বাধীনতা যুদ্ধে শেরপুরের দ্বিতীয় শহীদের প্রতিবন্ধি ভিক্ষুক কন্যার কঠিন দিনকাল।

মাসুদ হাসান বাদল
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৩৮ Time View

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলেও ২৭ এপ্রিল শেরপুরে প্রথম পাক সেনারা প্রবেশ করে। ৫০ বছর আগে ইতিহাসের এই দিন শহরের নিউমার্কেট মোড়ে তৎকালিন টেলিগ্রাফ অফিসের সামনে প্রতিদিনের মত মুজিব ভক্ত টকবকে যুবক আহাম্মদ আলী বসে পিঠা বিক্রি করছিলেন। আহাম্মদের বুকে পাক সেনারা বন্দুক ঠেকিয়ে বলে“বলো পাকিস্থান জিন্দাবাদ”। আহাম্মদ উঠে দাড়িয়ে চিৎকার দিয়ে বলে “জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধৃ”। সাথে সাথে গুলিতে ঝাঝরা করে দেয় আহাম্মদকে । ঐতিহাসিক ভাবে আহাম্মদ আলী মুক্তিযুদ্ধে শেরপুরের দ্বিতীয় শহীদ। এর আধা ঘন্টা আগে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী হত্যা করে শহরের মাধবপুরস্থ শনি মন্দিরের পূজারি সূর্যকান্ত ডুবে কে। পূজারি তখন সন্ধ্যা পূজা করছিলেন ,কোন কথাবার্তা নেই –শালা মালউন বলে অমনিই গুলি চালিয়ে দেয় পাকসেনারা। মারা যাওয়ার পরে ওই পূজারিকে ফেলে দেওয়া হয় পাশের একটি কুয়াতে। যতটুকু জানা গেছে ওই পূজারি শেরপুরের প্রথম শহীদ ও তার বাড়ী ইন্ডিয়াতে। আর আহাম্মদ আলীর বাড়ী শেরপুর সদর উপজেলার পাকুড়িয়া চকপাড়া গ্রামে। মৃত্যুর সময় আহাম্মদ আলীর স্ত্রী ও একমাত্র প্রতিবন্ধি এক কন্যা পাচ বছরের আখি বেগম রেখে জান। শহীদের ওই মেয়েটি সহায় সম্বলহীন ভিক্ষুক এই কঠিন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।
জানা গেছে, সহায় সম্বল হীন আহাম্মদ আলী শহীদ হওয়ার বছর পাচেক পরে মারা যায় তার স্ত্রী। মা মারা যাওয়ার পর প্রতিবন্ধি আঁখি আর কোন উপায় না থাকায় ভিক্ষা করেই জীবন নির্বাহ করে আসছে। অন্যের একটি ভাঙ্গা ঘরে মেয়েটি থাকত। বছর বিশেক আগে শেরপুরের নারী নেত্রী ও সমাজ সেবক ডালিয়া সামাদ দয়া করে একটি টিনের ঘর দূসম্পর্কের এক আতিœয়র বাড়ীতে করে দেন। সারাদিন ভিক্ষা করে অন্যের জমিতে ওই ঘরই তার ঠিকানা। বছর তিনেক ধরে মেযেটি আর হাটতে পারে না,ইদানিং ওর শরীর খুব খারাপ যাচ্ছে। এই অসুস্থ শরীর নিয়ে বসে বসে দুচার বাড়ী ভিক্ষা করে।ঘরটিও ঝরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নেই কোন ল্যিিট্রন ,বিছানা পত্র ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। তবে বছর তিনেক আগে রাষ্ট্র তাকে একটি প্রতিবন্ধ কার্ড দিয়েছে। দিন বিশেক আগে শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মেয়েটিকে সরকারি একটি ঘর ও দুই শতক জমি দিতে লছমনপুরের জামতলা এলাকায় মেয়েটিকে নিয়ে যান।কিন্ত বাড়ী থেকে অনেক দূরে ও মেয়েটির সাথে আর কেউ থাকার মত নেই বলে একরাত থেকে পরের দিন চলে এসেছে। নিকটকম কোন স্বজন নেই তবে যে বাড়ীতে মেয়েটি থাকে তারা বলেছেন ইদানিং মেয়েটি ইশারা ইঙ্গিতে বাবার স্মুতির কথা মনে করে কান্নাকাটি করে। মেয়েটির আশ্রয়দাতা দুসম্পর্কের ফুফাত ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেছেন ওর একটি ঘর, হুইল চেয়ার দরকার ও ওর জন্য উপযোগী একটি বাথরুম দরকার। অসুস্থতায় কান্নাকাটি করে সরকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে ভাল হতো। শেরপুরের বিশিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর ফোরামের শেরপুরের সাধারন সম্পাদক এড.আখরুজ্জমান বলেছেন মুক্তিযোদ্ধে শেরপুরের দ্বিতীয় শহীদ আমাম্মদ আলী ইতিহাসের অংশ। মেয়েটিকে সহয়তা করতে সরকার প্রতি আহবান জানিয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধ। এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব জানিয়েছেন আঁখির ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে আর কি কি সুবিধা দেওয়া যায় তা দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।