1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কেশবপুরে যুব সমাজের উদ্যোগে বজ্রপাত প্রতিরোধে তালের বীজ রোপন শেরপুরে মুজিব শতবর্ষ জেলা দাবা লীগ উদ্বোধন : প্রথমদিন দাবা ক্লাবের পূর্ণ পয়েন্ট লাভ। নালিতাবাড়ীতে মায়ের সাথে অভিমান করে শিশুর আত্মহত্যা শ্রীবরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে হেরোইনসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার সোমেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাট চলছেই,পাড় ভেঙ্গে হুম‌কি‌তে বসতবাড়ি নালিতাবাড়ীতে আখ চাষে লাভ,বাড়ছে আবাদ ঝিনাইগাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নালিতাবাড়ীতে মার্সেল ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন হৃদরোগের আশঙ্কা আছে কি না, বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মুহূর্তেই পরীক্ষা করবেন যেভাবে ঝিনাইগাতীতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ঝিনাইগাতীতে প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মান ও বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ

ঝিনাইগা‌তী(‌শেরপুর)প্র‌তি‌নি‌ধি
  • Update Time : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
  • ১৬৬ Time View

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মান ও বিতরনে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সুবিধাভোগীদের।

জানা গেছে, ২০১৮,১৯ অর্থবছরে ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয় জমি আছে ঘর নেই,এমন গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষে ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৭২ ঘর নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়। প্রতিটি দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মানের জন্য বরাদ্দ আসে প্রায় ৩ লাখ টাকা করে।

জানা গেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পদাধিকার বলে উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে এসব ঘর নির্মান কাজ সম্পর্ন করার কথা থাকলেও এখানে তা করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত রুবেল মাহমুদ নিজ উদ্যোগে ঘরগুলো নির্মান কাজ সম্পুর্ন করেন। উপজেলার ৭ জন ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা হলে তারা জানান, তাদের কাছ থেকে শুধু সাক্ষর নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহামুদ। জানা গেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে শুধু সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা নেয়া হয়েছে। আবার নামের তালিকা দেয়ার ক্ষেত্রেও ইউপি চেয়ারম্যানগন ইউপি সদস্যদের অধিকার সংরক্ষণ না করে তারা এককভাবে নামের তালিকা দেন। কাংশা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মিষ্টার, হাতিবান্দ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলী আকবরসহ অন্যান্য ইউনিয়নের সদস্যসহ অন্যান্যরা জানান,এনিয়ে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সঞ্চার হয়। নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফর্শা জানান,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের বাদ দিয়ে নিজে কাজ সম্পুর্ন করেন। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে মনো কষ্টের কারন হলেও ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজ নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সম্পৃক্ত থেকেই করতে হয়। বিধায় তারা প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। উপজলা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁনের সাথে এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ এর মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। জানা গেছে,মোফাজ্জল হোসেন চাঁন সম্প্রতি স্থানীয় বনিক সমিতির সাধারণ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ এর বিরোধীতা করে মঞ্চে বক্তব্য দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদও চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দেন। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে শুরু হয় আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁনের বিগত ৫ বছনের কর্মকান্ডের তদন্ত করতে মাঠে নামেন নির্বাহী কর্মকর্তার গঠিত তদন্ত কমিটি। ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও নেয়া হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল তাকিয়ে আছে এবিষয়ে শেষ পর্যন্ত কি হয় তা দেখার জন্য। অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা দেয়ার ক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্রদের নামে এসব ঘর বিতরনের কথা থাকলেও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চেয়ারম্যানদের নিকটাত্মীয় ওস্বচ্ছ ব্যক্তিদের মধ্যে এসব ঘর বিতরন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্বচ্ছ ব্যক্তিদের মধ্যে ঘর বিতরনের সময় সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় ৫০ থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। ফলে টাকা দিতে না পারায় অনেক অসহায় পরিবারের ভাগ্যে জুটেনি সরকারি ঘর। মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের হাসলিগাও গ্রামের সেকান্দর আলী জানান,তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে একটি ঘর দেয়া হয় তাকে। এভাবে শিংহভাগ ঘর বিতরনে নেয়া হয় অর্থ। তবে চেয়ারম্যানগণ এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
এছাড়া ঘর নিমানে নির্মান সামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহারের ও অভিযোগ করেছেন অনেক সুবিধাভোগিরা । সুবিধাভোগীদের অভিযোগ নির্মান শ্রমিকদের সাথে তাদের কাজ করার পাশাপাশি নিয়মিত প্রতিদিন দুপুরে নির্মান শ্রমিকদের খাবার ও দিতে হয়েছে তাদের। এ অভিযোগ ভুক্তভোগী সুবিধাভোগিদের। বিষয়টি কোন কোন সুবিধাভোগির পক্ষে কষ্ঠের ও কারন হয়ে দেখা দেয়। এমন অভিযোগ ও করেছেন অনেকেই।
অপর দিকে নির্মান সামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহার করার কারনে নির্মান কাজ শেষ না হতেই কোন কোন বিল্ডিং এর প্লাষ্টার উঠতে শুরু করেছে বলে জানান সুবিধাভোগিরা।
প্রয়োজনের তুলনায় নির্মান সামগ্রী কম ব্যবহারের কারনে নির্মান কাজ শেষ না হতেই উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই গ্রামের আয়শা বেওয়ার ঘরে ফাটল ধরে ভেঙ্গে পরার উপক্রম হয়।
আয়শা বেওয়া জানান নির্মান সামগ্রী কম ব্যবহার করার কারনে তার ঘরে ফাটল দেখা দেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহামুদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘর নির্মানে নির্মান সামগ্রী কম ব্যবহার করা হয়নি। নতুন মাটিতে ঘর নির্মানের কারনে আয়শা বেওয়ার ঘর ফাটল দেখা দেয়। সেটি ভেঙ্গে পুনরায় নির্মান করে দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বাদ দিয়ে নিজে ঘর নির্মাণের বিষয়ে বলেন, ঘর নির্মানের বিষয়ে নির্বাহী আফিসার হিসেবে আমার জবাব বিহিতা রয়েছে। তাই চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কাজ করানো হলে জবাব বিহিতার মধ্যে পরতে হবে আমাকে। তাই আমি নিজেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছি। তাতে কাজের মান অন্যান্য উপজেলার তুলনায় শতভাহ ভাল হয়েছে। টাকার বিনিময়ে সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন প্রতিজন সুবিধাভোগীদের কাছে বারবার বলা হয়েছে ঘর পেতে কাউকে যেন কোন টাকা দেয়া না হয়। এর পরেও কেউ টাকা দিলে আমার কি করার আছে।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।