1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
নালিতাবাড়ীর গোপাল সরকার সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের শুভেচ্ছা নালিতাবাড়ীতে বৃদ্ধাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, কারাগারে পুত্রবধূ ও নাতি। নালিতাবাড়ীতে ওয়ার্কার্স পার্টির কমরেড অমল সেন স্বরণে শীতবস্ত্র বিতরণ নালিতাবাড়ীতে বিটিসিএল অফিস বেহাল,টেলিফোন সংযোগ বিহীন । শেরপুরে ওয়ার্কার্স পার্টির শীতবস্ত্র বিতরণ ঝিনাইগাতীতে বিনাচিকিৎসায় ৮বছর ধরে শিকলে বন্দি ভারসাম্যহীন আখি পাবলিক বাসে চড়ে ঢাকায় ফিরলেন মতিয়া চৌধুরী “ছোট দেশ হলেও বড় বড় দেশ যা করে আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই”মতিয়া চৌধুরী নালিতাবাড়ীতে সংরক্ষণের অভাবে গণকবর নদীতে বিলীন হওয়ার পথে ! নালিতাবাড়ীতে কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নালিতাবাড়ীতে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের চরম দারিদ্রে জীবন যাপন করলেও,কেউ তাঁদের খোঁজ নেয় না। মেলেনি কোনো স্বীকৃতিও।

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১
  • ১২৮ Time View

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যা যজ্ঞের পর শেরপরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত অঞ্চলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকির নের্তৃত্বে গড়ে উঠে সশস্ত্র প্রতিরোধ। এখন সেই প্রতিবাদকারীদের শুধু বুকভরা দীর্ঘশ্বাস। দুঃসহ নির্যাতন-নিপীড়ন সয়েছিলেন। বর্তমানে তারা চরম দারিদ্র্যে জীবনযাপন করলেও কেউ তাঁদের খোঁজ নেয় না। মেলেনি কোনো স্বীকৃতিও।
জানাগেছে, ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নিতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকির নের্তৃত্বে উপজেলার পোড়াগাও ইউনিয়নের চৌকিদার টিলা পাহাড়ে গড়ে তোলা হয়েছিলো জাতীয় মুক্তিবাহিনী নামে একটি সংগঠন। শেরপুর জেলার ৫০০ জন যুবকের মধ্যে সেদিন নালিতাবাড়ীর ৩৭৬ জন যুবক অংশ নিয়েিেছলেন। সেখানে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শেষে যার যার দায়িত্ব বুঝে নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে ঝাপিয়ে পড়েন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসার টানে স্ত্রী ফেলে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন, সঞ্জিত পাল (৬৩)। পৌর শহরে বসবাসকারী এই প্রতিরোধ যোদ্ধাকে দুই দফায় ১৮ মাস কারাগারে কাটাতে হয়েছে। সামরিক সরকারের রোষানলে পড়ে নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সশস্ত্র প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সন্মুখ যুদ্ধে নিহত দুইভাই মুক্তিযোদ্ধা জয়শ^র বর্ম্মণ ও অনন্ত বর্ম্মণ। তাদের বাড়ি উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের বাঘবেড় দিকপাড়া ও জাংগালিয়াকান্দা গ্রামে। অনন্তের স্ত্রী খুকি বর্ম্মন জানান, নিজের বলতে মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই ছাড়া আর কিছু নেই। ছোট দুই সন্তানকে বড় করতে পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেছি। মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটি এখন দিনমজুরি করে সংসার চালায়। তার থাকার মতো একটা ভাল ঘরও নেই। চোখে ছানি পড়েছে, সেটা অপারেশন করার সামান্য টাকাও নেই। আছে শুধু বুকভরা দীর্ঘশ^াস। তাঁর মতো যোগানিয়া ইউনিয়নের তালুকপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন। তিন ভাই মিলে সংসারে কৃষিকাজ করে ভালোই চলছিলেন। পঁচাত্তরে পরিবারের লোকজন নাকশী গ্রামের রশীদা বেগমের সঙ্গে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে। সেদিন ছিল তাঁর বাসর রাত। হঠাৎ করে জানতে পারেন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার খবর। বাসর ঘরেই বউকে ফেলে বেরিয়ে পড়েন প্রতিশোধ নিতে। অন্যান্য প্রতিরোধ যোদ্ধার মতোই নানা নির্যাতন ভোগ করে ফিরে আসেন বাড়িতে। চকপাড়া খড়খড়িয়াকান্দা গ্রামের মো. ওয়াজেদ আলী। তখন তিনি তারাগঞ্জ পাইলট হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অবস্থায় ঝাপিয়ে পড়েন। পৌরশহরের নালিতাবাড়ী বাজারের ফজলুল হক, আব্দুল হাই, কাউলারা গ্রামের আজীজুল হক, তালুকপাড়া গ্রামের শামছুদ্দীনসহ বর্তমানে বেঁচে থাকা দুই শতাধিক প্রতিরোধ যোদ্ধার জীবনকাহিনীই এক ও অভিন্ন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই সাধারণ মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রতিবাদে নেমেছিলেন, নির্যাতন-নিপীড়ন সয়েছেন। আর এখন চরম দারিদ্র্যে জীবনযাপন করলেও তাঁদের খোঁজ কেউ নেয় না। মেলেনি কোনো স্বীকৃতিও।
নালিতাবাড়ী প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদের সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে জয়শ^র, অনন্তের মতো প্রায় প্রতিটা পরিবারই অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার প্রত্যাশা, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবাদকারী সংগঠনের এই যোদ্ধাদের প্রতি একটু সদয় দৃষ্টি দিবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।