1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ঝিনাইগাতীতে সুকুমার হলেন শুকুর আলী কেশবপুরে বজ্রপাত প্রতিরোধে তালের চারা রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করলেন এমপি শাহীন চাকলাদার নালিতাবাড়ীতে সনাকের উদ্যোগে ৪০০ তালবীজ রোপন ঝিনাইগাতীতে ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা বন্ধ করে বিল্ডং নির্মানের অভিযোগের তদন্ত শুরু কেশবপুরে যুব সমাজের উদ্যোগে বজ্রপাত প্রতিরোধে তালের বীজ রোপন শেরপুরে মুজিব শতবর্ষ জেলা দাবা লীগ উদ্বোধন : প্রথমদিন দাবা ক্লাবের পূর্ণ পয়েন্ট লাভ। নালিতাবাড়ীতে মায়ের সাথে অভিমান করে শিশুর আত্মহত্যা শ্রীবরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে হেরোইনসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার সোমেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাট চলছেই,পাড় ভেঙ্গে হুম‌কি‌তে বসতবাড়ি নালিতাবাড়ীতে আখ চাষে লাভ,বাড়ছে আবাদ

ফোন পেলেই অক্সিজেন-অক্সিমিটার নিয়ে ছুটে চলেন করোনা রোগীর বাড়ীতে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১৮ Time View

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
মুঠোফোনে বলা হয় উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে এক যুবকের(২৫) শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে। রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজন। শুক্রবার সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি ছিলো শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই দ্রুত সময়ের মধ্যে শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে ওই রোগীর বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিমিটার নিয়ে পৌছে যান দুই তরুণ। রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা ছিলো ৯০। পরে ওই রোগীকে প্রায় ১৫ মিনিট ব্যায়াম করানোর পর অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮। দুই তরুণ প্রায় আধাঘন্টা ওই রোগীর বাড়িতে অবস্থান করেন। রোগী সুস্থ্য অনুভব করলে তাঁকে আর অক্সিজেন দিতে হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে শহরের নিলামপট্টি এলাকায় এক বৃদ্ধা নারীর (৬৫) শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। খবর পেয়ে অক্সিজেন ও অক্সিমিটার নিয়ে তরুণেরা ওই নারীর বাড়িতে যান। তখন তাঁর অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৭৬। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রায় ৫০ মিনিট অক্সিজেন দেওয়া হয়। পরে তিনি স্বাভাবিক হলে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৮ এ দাঁড়ায়।
বুধবার রাত ১০টা ২৩ মিনিট। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি। মুঠোফোনে বলা হলো শহরের মোমিনবাগ এলাকায় এক করোনা রোগীর দ্রুত অক্সিজেনের প্রয়োজন। দেরি না করে বৃষ্টির মাঝেই ১৫ মিনিটের মধ্যে ওই বাড়িতে অক্সিজেনের সিলিন্ডার ও অক্সিমিটার নিয়ে পৌঁছে গেলেন চার তরুণ। ওই পরিবারে সাতজন করোনায় আক্রান্ত। ওই সাতজনের মধ্যে এক নারীর(৩৩) অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৮৬। পরে দ্রুত ব্যায়াম করিয়ে আধঘণ্টা পর অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে ৯৭-৯৮এ দাঁড়ায়। ওই নারী সুস্থ অনুভব করলে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এভাবেই প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত কোনো না কোনো মানুষের বাড়িতে অক্সিজেন ও অক্সিমিটার নিয়ে স্বেচ্ছায় ছুটে চলেছেন শেরপুর ইমার্জেন্সি অক্সিজেন ব্যাংক নালিতাবাড়ী শাখার তরুণ সদস্যরা। করোনার এই সংকটাপন্ন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে গত ২৬ জুলাই থেকে শেরপুর ইমার্জেন্সি অক্সিজেন ব্যাংক, নালিতাবাড়ী শাখার সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। বিনামূল্যে এই সেবা পেয়ে রোগী ও রোগীর স্বজনেরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। অক্সিজেন সেবা দিতে উপজেলা ও পৌরসভায় ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন।
শেরপুর ইমার্জেন্সি অক্সিজেন ব্যাংক থেকে জানা যায়, শেরপুর থেকে অভিজিৎ সাহা, সাব্বির আহম্মেদ বাদশা ও সাদ আল জুনাঈদ প্রশিক্ষন নিয়েছেন। পরবর্তীতে তাঁরা বাকী সদস্যদের প্রশিক্ষন দিয়েছেন। অক্সিজেন সেবাকে নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেলেনা পারভীনের সহযোগিতায় ওই তরুণদের পিপি দেওয়া হয়। তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবনের একটি কক্ষ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ওই তরুণদের আইনজীবী হাফিজুর রহমান তিনটি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দেন। অক্সিজেন শেষ হলে শেরপুর ইমাজেন্সি অক্সিজেন ব্যাংক থেকেও নতুন সিলিন্ডার পান এই তরুণেরা। শেরপুর ইমাজেন্সি অক্সিজেন ব্যাংক থেকে কাজ পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে এই তরুণদের পাঁচটি অক্সিমিটার, হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক দেওয়া হয়েছে।
উপকারভোগী এক নারীর নাতি খোরশেদ রাব্বী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে অক্সিজেন পাওয়াটা সত্যিই ভাগ্যের। এই স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি আমার পরিবার চির কৃতজ্ঞ।
ইমার্জেন্সি অক্সিজেন ব্যাংক নালিতাবাড়ী শাখার সমন্বয়কারী অভিজিৎ সাহা বলেন, শেরপুর ইমার্জেন্সি অক্সিজেন ব্যাংক ও ইউএনও স্যারের সার্বিক সহযোগীতায় আমরা নালিতাবাড়ীর মানুষকে এই সেবাটুকু দিতে পারছি। ফোন পেলেই নাম ঠিকানা জেনে অক্সিজেন ও অক্সিমিটার নিয়ে দ্রুত রোগীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করি। রোগীর অবস্থা বুঝতে প্রথমেই তাঁর অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। পরে নির্ধারিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোগীকে ব্যায়াম ও প্রয়োজনে অক্সিজেন দেওয়া হয়ে থাকে।’
ইমাজেন্সি অক্সিজেন ব্যাংক শেরপুর জেলার সমন্বয়কারী এস এম জোবায়ের বলেন, স্বেচ্ছাসেবীদের অক্সিজেন ও অক্সিমিটারের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ উপজেলার জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নির্ধারিত চিকিৎসক রয়েছেন। মুঠোফোনে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁরা কাজ করছেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেলেনা পারভীন বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীকে অক্সিজেন সেবা দিতে তরুণেরা স্বেচ্ছায় বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন। এটা প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।