1. admin@somoyerahoban.com : somoyerahoban :
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

ঝিনাইগাতীতে জাইকা’র পাইপলাইন নির্মাণ কাজ শুরু, আরোও ৫শ একর অনাবাদি জমি পাবে সেচ সুবিধা

‌ঝিনাইগাতী(‌শেরপুর)প্র‌তি‌নি‌ধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৪ Time View

শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে জাইকা’র খুদ্র পানিসম্পদ ২ প্রকল্পের আওতায় মাটির নিচ দিয়ে পাইপ লাইন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে এলজিইডি । উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের মহারশি নদীর সীমান্তে হলদীগ্রাম থেকে পাইপ লাইনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ৪ কিলোমিটার এ পাইপ লাইন দিয়ে পানি সরবরাহ করা হবে নালিতাবাড়ী উপজেলার ‌েপাড়াগাঁও ইউনিয়নের , সমশ্চুড়া,কোচপাড়া, জাঙ্গালপাড়া,দেওয়ানগঞ্জে পাড়া,ধুরারপাড়, মানিককুড়াসহ আরোও কয়েকটি গ্রামে। নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে,সেচ সুবিধার অভাবে যুগযুগ ধরে এসব এলাকার পাহাড়ি জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না। এসব পাহাড়ি এলাকার ভূগর্ভস্থ পনির স্তর কয়েকশ নিচে। এছাড়া মাটির নিচে পাথর থাকার কারনে গভীর- অগভীর কোন নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। ফলে ২০১০ সালে পুড়াগাঁও ইউনিয়নের সমশ্চুড়া গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ছোট্ট একটি খাল রঞ্জনা ঝরনা একটি স্লূইসগেইট নির্মাণ করা হয়। এর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে প্রায় ১শ একর অনাবাদি পাহাড়ি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা হয়। এটি পরিচালনার জন্য গঠন করা হয়েছে অঞ্জনা ঝুড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। এ সমিতিতে ৭শ কৃষক রয়েছে। এ সমিতির সভাপতি উমর ফারুক সাগর ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন ওই স্লূইস গেইটের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে ১শ একর অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনা হলেও আরোও প্রায় ৫শ একর জমি সেচ সুবিধার অভাবে চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তারা বলেন, বছরের পর বছর অনাবাদি থাকছে জমিগুলো। অপরদিকে ২০১৬ সালে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের শালচুড়ায় মহারশি নদীতে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাবারড্যাম নির্মাণ করা হয়। জাইকা’র অর্থায়ানে নির্মিত হয় ড্যামটি।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, এ রাবারড্যামের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে উপজেলার নলকুড়া ও গৌরিপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০টি এলাকায় ১২শ একর অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে এসেছে ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্তন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এ রাবারড্যামের অনেক পানি অপচয় হয়। আর পানির অপচয় রোধে জাইকা’র পক্ষ থেকে ২০১৬ সাল থেকে অপচয়কৃত পানি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ পদ্ধতি বারাতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চালানো হয় জরিপ কাজ। পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ ও করা হয়। সাবেক কৃষি মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরীর দিক নির্দেশনায় পাড়াগাঁও ইউনিয়নের যুগযুগ ধরে অনাবাদি ওই ৫ শ একর পাহাড়ি জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে জাইকা’র খুদ্র পানিসম্পদ প্রকল্প ২এর আওতায় ২কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটির নিচ দিয়ে পাইপ লাইন নির্মাণ কাজ হাতে নেয়। ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নির্মাণ কাজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে শেরপুরের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আকরাম এন্টারপ্রাইজ নির্মাণ কাজটি করছেন। ২০২২ সালের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে। আধুনিক পদ্ধতিতে নির্মিত পাইপ লাইনের মাধ্যমে স্লূইস টিপে কৃষকদের ক্ষেতে পানি দেয়া হবে। কৃষকরা পাবেন স্বল্পমূল্যে পরিবেশ বান্ধব সেচ সুবিধা।

রঞ্জনা ঝরনা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি উমর ফারুক সাগর বলেন, জাইকা, এ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়ায় স্থানীয় বিএডিসিসহ অন্যান্য সেচ প্রকল্পের উচ্চমূল্যে পানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরু হয়েছে গাত্রদাহ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির শেরপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাইপ লাইনটি নির্মিত হলে ওই এলাকার অনাবাদি ৫শ একর পাহাড়ি অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আসবে। কৃষকরা পাবেন স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা। কৃষিক্ষেত্রে আসবে ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্তন।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
কপিরাইট © 2020 somoyerahoban.com একটি স্বপ্ন মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠান।